প্রাক্তন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ক্যাপ্টেন ও পূর্ব বিসিবি পরিচালক অকরম খান মুসতাফিজুর রহমানের কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) থেকে বাদ দেওয়াকে ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সিদ্ধান্ত শুধু খেলোয়াড়ই নয়, দেশের ভক্তদেরও আঘাত করেছে।
মুসতাফিজের বাদে ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও রাগের স্রোত দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তার সমর্থকদের কাছ থেকে সমবেদনা ও পুনর্বিবেচনার দাবি তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বেসামরিক ক্রীড়া পরিবেশে অনিচ্ছাকৃত উত্তেজনা তৈরি করেছে।
অকরম খান, যিনি বেসামরিকভাবে বিসিবির নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণ করেছেন, বলেন যে বর্তমান সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে এমন অনিয়মিত পদ্ধতি দুই দেশের (বাংলাদেশ ও ভারত) মধ্যে ক্রমবর্ধমান ফাঁক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে হলে উভয় দেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। তবে অস্বচ্ছ নির্বাচন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে এই সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
অকরমের মতে, অতীতেও নীরবতা দেশের ক্ষতি করেছে। তিনি অতীতের কিছু উদাহরণ উল্লেখ করে বলেছিলেন, যখন ক্রীড়া সংস্থা সমস্যার মুখে নীরব রইছিল, তখন ফলস্বরূপ দল ও ভক্ত উভয়েরই ক্ষতি হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বিসিবিকে এখন দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ় নীতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সংস্থার উচিত স্বচ্ছতা বজায় রেখে সকল স্টেকহোল্ডারের স্বার্থকে সমানভাবে বিবেচনা করা।
অকরমের আহ্বান স্পষ্ট: বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে ভয় ছাড়াই, দ্বিধা না করে, সাহসিকতার সঙ্গে তাদের দাবি উপস্থাপন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবলমাত্র দৃঢ় ও নির্ভীক অবস্থানই দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে সক্ষম।
এই মুহূর্তে বেসামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট কতটা স্বনির্ভর ও সম্মানজনক হবে। অকরমের মতে, যদি সংস্থা দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেয়, তবে মুসতাফিজের বাদের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অকরম খান আরও জোর দিয়ে বলছেন, বেসামরিক সংস্থার উচিত দেশের গর্ব ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা। তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা রক্ষার জন্য ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।
বিসিবি এখন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবে, তা দেশের ভক্ত ও খেলোয়াড়দের নজরে থাকবে। অকরমের মন্তব্যের পর বেসামরিক সংস্থার কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তবে স্পষ্ট যে, অকরমের মতামত দেশের ক্রিকেটের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়েছেন, নীরবতা আর সহ্য করা যাবে না; সক্রিয় ও সাহসী পদক্ষেপই একমাত্র সমাধান।
বিসিবি যদি অকরমের আহ্বানকে গম্ভীরভাবে গ্রহণ করে, তবে দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



