রাজশাহী বিভাগের বাঘা উপজেলায় শনি রাত্রে প্রায় একটায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩৫ বছর বয়সী সোহেল রানা মারা যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাস্থ্য কর্মীরা তাকে জরুরি সেবা প্রদান করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
রাতের অন্ধকারে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের বাড়িগুলোতে আলো জ্বলে ওঠে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর ঘরে তারা শুয়ে থাকায় গুলি তাদের ঘরে প্রবেশের মুহূর্তে শোনায়। গুলির গর্জন শোনার পর বাড়ির দরজা ভেঙে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে পড়ে।
সোহেল রানা পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের সন্তান। তার পরিবারে স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যারা গুলির ফলে আহত হয়। আহত স্ত্রী ও কন্যাকে দ্রুতই স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
সোহেলের বড় ভাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, গুলির সময় সোহেল ও তার স্ত্রী ঘরে শুয়ে ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে কয়েকজন অপরাধী ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ গুলির স্রোত ছড়িয়ে দেয়।
অপরাধীরা গুলি চালানোর পর বাড়ির ভেতরে তীব্র শব্দের কারণে আশেপাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দারা জাগে এবং আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। অপরাধীরা হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ আসলে তাকে গুলি করা হবে, এরপর তারা সোহেলের ঘরে প্রবেশ করে।
সোহেলের স্ত্রী গুলি থেকে স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তাকে কাঁথা ও কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করার পরেও অপরাধীরা টিন কেটে গুলি চালিয়ে দেয়। গুলি সোহেলের পেটে আঘাত হানে, ফলে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুতই মৃত্যু ঘটে।
বাঘা থানার পরিদর্শক সুপ্রভাত মন্ডল তদন্তে জানান, পূর্বে একই অঞ্চলে ঘটিত হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুলিবিদ্ধ ঘটনা ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধীরা রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়ে সোহেল রানা নিহত হয়েছেন।
মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং রায়মেক মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তে গুলির প্রভাব ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের কাজ চলবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের সহিংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা জনগণকে অন্ধকার সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজের শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। সোহেল রানা পরিবারের ক্ষতি ও আহত পরিবারের সদস্যদের দ্রুত সুষ্ঠু চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সরকারি সংস্থার সমন্বয় কাজ চলছে।



