শুক্রবার রাত ১০:৪৬ ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন অপারেশনকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন, যা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে চালু হয়। অপারেশনটি “অপারেশন অ্যাবসোলিউট রেজলভ” নামে পরিচিত এবং এর পরিকল্পনা মাসের পর মাস গোপনভাবে চালিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথমে ট্রাম্পের সত্য সোশ্যাল পোস্টে সকাল ৪:২১ টায় জানানো হয় যে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ধরতে daring মিশন চালু করেছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ পায়, তবে সূত্রগুলো জানায় যে এই ধরনের জটিল অপারেশনের প্রস্তুতি বহু মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছিল এবং বহুবার অনুশীলন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্সের বিশেষ ইউনিটগুলো মাদুরোর নিরাপদ বাড়ির সঠিক নকল তৈরি করে, যাতে তারা শক্তিশালী সুরক্ষিত ভবনে প্রবেশের পদ্ধতি শিখতে পারে। একই সঙ্গে সিআইএ আগস্ট মাস থেকে একটি ছোট দলকে ভেনেজুয়েলায় পাঠিয়ে মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিনের বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে, যা অপারেশনের সময় তাকে দ্রুত ধরতে সহায়তা করে।
সিআইএ আরও জানায় যে মাদুরোর নিকটে একটি গোপন এজেন্ট রয়েছে, যিনি তার চলাচল পর্যবেক্ষণ করে অপারেশনের সময় সঠিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনাকারীরা চার দিনের আগে ট্রাম্পের কাছে অপারেশন অনুমোদনের অনুরোধ রাখে, তবে আবহাওয়া ও মেঘের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সময়সূচি সামঞ্জস্য করার পরামর্শ দেয়া হয়।
শেষে, শুক্রবার রাত ১০:৪৬ টায় ট্রাম্পের অনুমোদন পাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা পরিকল্পনাকারীরা অপারেশন চালু করে। অপারেশন চলাকালীন ট্রাম্প মার-এ-লাগো ক্লাবের তার পরামর্শদাতাদের সঙ্গে বসে সরাসরি লাইভ স্ট্রিম দেখেন, যেখানে পুরো মিশনের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মিশন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘন্টার পর ট্রাম্প ফক্স নিউজে বলেন, তিনি বহু সফল অপারেশন করেছেন, তবে এই মিশনের মতো কিছু কখনো দেখেননি। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে অপারেশনের গুরত্ব ও অনন্যতা প্রকাশ পায়।
পেনটাগন এই মিশনের জন্য ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিশাল সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। একটি বিমানবাহিনীর ক্যারিয়ার জাহাজ, এগারোটি যুদ্ধজাহাজ এবং এক ডজনের বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ১৫,০০০ এরও বেশি সৈন্য ক্যারিবিয়ানে অবস্থান করছে, যা অপারেশনের নিরাপত্তা ও সফলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
অপারেশনের সময় মাদুরোর নিরাপদ বাড়িতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। ডেল্টা ফোর্সের সৈন্যরা পুনরায় তৈরি করা নকল বাড়িতে অনুশীলন করে, যাতে বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো ভুল না হয়। একই সঙ্গে সিআইএয়ের তথ্য বিশ্লেষণ দল মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিনের প্রতিটি ধাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অপারেশনকে সমন্বিত করে।
অপারেশনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সিআইএয়ের এজেন্ট মাদুরোর নিকটে অবস্থিত থাকায় তার চলাচল রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়। এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অপারেশন দল দ্রুত লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করে, যা মিশনের সফলতা নিশ্চিত করে।
অপারেশনটি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের জটিল মিশন বহু বছর পর আবার করা হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভেনেজুয়েলার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই অপারেশন অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক গতিবিধিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ান সামরিক উপস্থিতি এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই মিশনের সফলতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত কাজের ফল, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং উচ্চ স্তরের প্রযুক্তিগত সমর্থনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। অপারেশনটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



