আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের রাউন্ড‑১৬ ম্যাচে, পাপে গেইয়ের দু’গোলের মাধ্যমে সেনেগাল সুদানের ওপর ৩-১ স্কোরে জয়লাভ করে কোয়ার্টার ফাইনালের সিট নিশ্চিত করেছে। একই সন্ধ্যায়, দশজন খেলোয়াড়ে সীমিত মালি টিউনিসিয়ার ওপর পেনাল্টি শুট‑আউটে অগ্রসর হয়েছে।
সেনেগাল, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন, মরক্কোর হোস্ট দলের স্বপ্নকে বাধা দিতে চাওয়া প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়। ট্যাংগিয়ারে সুদানের সঙ্গে ম্যাচে, প্রথমার্ধে অর্ধশতক র্যাঙ্কিং পার্থক্যের দলটি অপ্রত্যাশিতভাবে অগ্রগতি করে। অস্ট্রেলিয়ার সেকেন্ড টিয়ার ক্লাবের খেলোয়াড় আমির আবদাল্লা প্রথমে চমৎকার একটি শট দিয়ে সুদানের গোলে প্রথম গোল করেন।
সেনেগাল দ্রুতই সমতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়। সাদিও মানে, আফ্রিকান প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কারধারী, প্রথমার্ধের শেষের দিকে গেইয়ের জন্য পাস দেন, যার ফলে গেইয়ে সমান স্কোরের গোল করেন। একই সময়ে মানে আবারও গেইয়ের পাসে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেন, যা গেইয়ে অতিরিক্ত সময়ে সম্পন্ন করে ২-১ করে তুলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সেনেগাল আরও একজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তন করে ইব্রাহিম মবায়ে মাঠে নামিয়ে দেন। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের তরুণ খেলোয়াড় দীর্ঘ পাসে দৌড়ে গিয়ে সুদানের গোলরক্ষক মংগেড আবুজাইদকে নিকট পোস্টে বাধা দিয়ে তৃতীয় গোল করেন, ফলে স্কোর ৩-১ হয়ে যায়।
সুদান, ১৯৭০ সালে ট্রফি জিতার পর মাত্র দ্বিতীয়বার আফ্রিকান কাপের নকআউট পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি গৃহযুদ্ধের চাপে ছিল। তাদের এই পারফরম্যান্সকে রেকর্ডে উল্লেখযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে।
মালি ও টিউনিসিয়ার ম্যাচে, মালি দশজন খেলোয়াড়ে সীমিত হলেও পেনাল্টি শুট‑আউটে টিউনিসিয়াকে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হয়। শুট‑আউটের সময় উভয় দলের খেলোয়াড়ের চাপ এবং গোলের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, শেষ পর্যন্ত মালি বিজয়ী হয়ে ওঠে।
সেনেগালের কোচ গেইয়ের মন্তব্যে দলের আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দলটি পূর্বের কঙ্গো ম্যাচে পিছিয়ে থেকে সমতা অর্জন করেছিল, আর আজকের জয়ও একই ধরনের লড়াইয়ের ফল। গেইয়ের মতে, এই জয় দলের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য প্রস্তুত করেছে।
সুদানের প্রথমার্ধের প্রাথমিক অগ্রগতি সত্ত্বেও, সেনেগাল দ্রুতই গেইয়ের দু’গোলের মাধ্যমে সমতা রক্ষা করে এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে। গেইয়ের পারফরম্যান্সকে দলীয় কৌশলের মূল অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালি ও টিউনিসিয়ার পেনাল্টি শুট‑আউটের বিশদে দেখা যায়, মালি দলের রক্ষাকারী খেলোয়াড়ের শটগুলো বেশি সফল হয়েছে, ফলে টিউনিসিয়া শেষ পর্যন্ত হারে। উভয় দলের খেলোয়াড়ের শটের সঠিকতা ও চাপের মধ্যে পার্থক্য শুট‑আউটের ফলাফল নির্ধারণ করেছে।
সেনেগালের পরবর্তী ম্যাচে তারা মরক্কোর সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে, যা হোস্ট দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মালি টিউনিসিয়ার পরবর্তী রাউন্ডে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যদিও এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এই রাউন্ডের ফলাফল আফ্রিকান ফুটবলের বর্তমান প্রবণতা এবং দলগুলোর কৌশলগত প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়। সেনেগালের জয় এবং মালি টিউনিসিয়ার ওপর পেনাল্টি জয় উভয়ই টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে দলগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।



