নিউ জিল্যান্ডের দ্রুতগতির পেসার লকি ফার্গুসন, আইএল টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে পায়ের পেশির চোটে ভুগতে থাকায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে। ২১ ডিসেম্বর, দুবাইতে অনুষ্ঠিত আইএল টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে বোলিং করার সময় তিনি দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলের পর অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ত্যাগ করেন। চোটের স্থানটি দৃশ্যমানভাবে ধরতে দেখা গিয়েছিল, ফলে তার পরবর্তী সব ম্যাচ থেকে বাদ পড়তে হয়।
ডেজার্ট ভাইপার্সের ক্যাপ্টেন হিসেবে ফার্গুসন এই চোটের আগে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তবে তার অস্বস্তি দেখা মাত্র স্যাম কারান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফার্গুসন কিছুটা পেশি সমস্যায় ভুগছিলেন, যা পরে আরও তীব্র হয়ে গিয়েছিল। একই পেশি চোটের কারণে তিনি বিগ ব্যাশ লিগের বাকি অংশেও অংশ নিতে পারেননি, ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার উপস্থিতি সীমিত হয়ে পড়েছে।
ফার্গুসনের জন্য পরিকল্পনা ছিল আইএল টি-টোয়েন্টি শেষ করার পর সিডনি থান্ডারসের হয়ে বিগ ব্যাশের বাকি অংশে অংশগ্রহণ করা, এরপর নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় দলে ফিরে আসা। বিশ্বকাপের আগে তিনি ভারতে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হোস্ট দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছিলেন, যা তার ফর্ম যাচাই এবং টিমের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পেশি চোটের পরিণতি তার এই সব পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
নিউ জিল্যান্ডের টিমের বিশ্বকাপ অভিযান ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হবে। ফার্গুসনের অনুপস্থিতি টিমের বোলিং শক্তিতে ফাঁক তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে তার গতি এবং সঠিক লাইন-লেংথের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বর্তমানে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচনী কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন।
ফার্গুসনের নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কোনো স্থায়ী চুক্তি নেই এবং তিনি নভেম্বর ২০২৪ের পর থেকে দেশের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির সময়ও তিনি একই ধরনের পেশি চোটে ভুগেছিলেন, যা তাকে সেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়। এই ধারাবাহিক চোটের পটভূমি তার ক্যারিয়ারকে অস্থির করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আইএল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফার্গুসনের চোটের পর থেকে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলমান, তবে পুনরুদ্ধারের সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি। নিউ জিল্যান্ডের দল এখন বিকল্প পেসারদের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কোনো ফাঁক না থাকে। কোচিং স্টাফের মতে, ফার্গুসনের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাকে টিমের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ডের টিমের প্রস্তুতি শিডিউলে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে, যেখানে তারা হোস্ট দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। এই সিরিজগুলোতে ফার্গুসনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, কারণ তার শারীরিক অবস্থা এখনও পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার হয়নি। টিমের ব্যবস্থাপনা বলেছে, তিনি যদি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন তবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, নতুবা বিকল্প পেসারদের ওপর নির্ভর করা হবে।
ফার্গুসনের চোটের প্রভাব শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, পুরো নিউ জিল্যান্ড দলের কৌশলগত পরিকল্পনায়ও পড়েছে। তার গতি এবং বোলিং বৈচিত্র্য টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে টার্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে। এখন কোচিং স্টাফকে তার পরিবর্তে অন্য পেসারদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে টিমের সামগ্রিক ব্যালেন্স বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, লকি ফার্গুসনের পেশি চোট তার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান হলেও স্পষ্ট নয় কখন তিনি পুরোপুরি ফিট হবেন। নিউ জিল্যান্ডের টিম এখন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে, যাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কোনো ঘাটতি না থাকে। ফার্গুসনের ভবিষ্যৎ অবস্থা এবং টিমের কৌশলগত পরিবর্তনগুলো আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



