২০২৫ সালের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি সেক্টরের শেয়ারগুলো ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড ভাঙার সময়, বেশ কিছু টেক দিগন্তের শীর্ষ নির্বাহীরা তাদের কাগজের সম্পদ নগদে রূপান্তরিত করে মোট ১৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করেছেন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই লেনদেনগুলো অধিকাংশই পূর্বনির্ধারিত ট্রেডিং পরিকল্পনা (10b) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বল্প সময়ের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস জুন ও জুলাই মাসে ২৫ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার নগদ সংগ্রহ করেন। একই সময়ে তিনি ভেনিসে লরেন সানচেজের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যা ব্যক্তিগত ও আর্থিক উভয় দিকেই নজর কেড়েছে।
ওরাকলের প্রাক্তন সিইও সাফ্রা ক্যাটজ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন, আর ডেল টেকনোলজিসের মাইকেল ডেল ২.২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেন। উভয় লেনদেনই কোম্পানির শেয়ার মূল্যের উর্ধ্বগতি এবং কৌশলগত বিক্রয় পরিকল্পনার ফলাফল।
এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, যিনি কোম্পানিটিকে বিশ্বে প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হিসেবে গড়ে তুলেছেন, নিজে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করে নগদায়ন করেন। একই সময়ে আরিস্টা নেটওয়ার্কসের সিইও জয়শ্রী উল্লাল উচ্চ গতির নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ার ফলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করে তার সম্পদ ৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নিয়ে যান।
মেটা প্ল্যাটফর্মের মার্ক জুকারবার্গ তার ফাউন্ডেশন মাধ্যমে ৯৪৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেন। পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের সিইও নিকেশ আরোরা এবং রোবিনহুডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বাইজু ভাট প্রত্যেকেই ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ সংগ্রহ করেছেন। এই সব লেনদেনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শেয়ারবাজারের উত্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে এআই প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে টেক শেয়ারগুলো ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই প্রবণতা শীর্ষ নির্বাহীদের জন্য শেয়ার বিক্রয়ের উপযুক্ত সময় তৈরি করেছে, কারণ শেয়ারের মূল্য শীর্ষে থাকলে নগদায়ন করা সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
তবে এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের বিক্রয় বাজারে কিছু সতর্কতা সৃষ্টি করে। একদিকে, শেয়ারহোল্ডাররা উদ্বিগ্ন হতে পারে যে প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের নগদায়ন কোম্পানির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি বা পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, পূর্বনির্ধারিত ট্রেডিং পরিকল্পনা (10b) ব্যবহার করে লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় থাকলেও, একাধিক নির্বাহী একসঙ্গে বড় পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করলে বাজারে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বাড়তে পারে, যা শেয়ারের মূল্যকে সাময়িকভাবে চাপ দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, এআই-চালিত প্রযুক্তি ও ক্লাউড সেবা বাজারের বৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা, নিয়ন্ত্রক নীতি পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে শেয়ারহোল্ডারদের বিক্রয় পরিকল্পনা, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং শিল্পের সামগ্রিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে টেক সেক্টরের শীর্ষ নির্বাহীরা শেয়ারবাজারের উত্থানকে কাজে লাগিয়ে মোট ১৬ বিলিয়ন ডলার নগদ সংগ্রহ করেছেন। এই লেনদেনগুলো কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি নয়, বরং বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সতর্কতা ও সুযোগ উভয়ই সমানভাবে উপস্থিত, তাই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে সমন্বিত বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।



