লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও শনিবার দ্য টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র দর্শকদের সিনেমা হলের প্রতি আগ্রহের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চলচ্চিত্র শিল্পের পরিবর্তন গতি এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত। এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্ট্রিমিং সেবার উত্থানকে তিনি প্রধান কারণ হিসেবে দেখেন।
ডিক্যাপ্রিও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রগুলো সিনেমা হলে কম দেখা যায়। আর নাট্যধর্মী চলচ্চিত্রগুলোও সীমিত সময়ের জন্যই প্রদর্শিত হয়, ফলে দর্শকরা প্রায়ই সেগুলোকে অনলাইন স্ট্রিমার অপেক্ষা করে দেখেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখন কি মানুষ সত্যিই সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে চায়?” অথবা সিনেমা হলগুলো কি শুধুই নির্দিষ্ট শৈলীর জ্যাজ বার হিসেবে রূপান্তরিত হবে?
এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ডিক্যাপ্রিও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য সিনেমা হলকে এখনও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখতে চান। তিনি আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে যথেষ্ট সংখ্যক দৃষ্টান্তমূলক স্রষ্টা সুযোগ পাবে, যাতে অনন্য প্রকল্পগুলো বড় পর্দায় উপস্থাপিত হতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
অভিনেতা এবং পরিবেশক হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সিনেমা হলেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে নিজের মতামত শেয়ার করেছেন। ডিক্যাপ্রিও বলেন, AI তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন সৃজনশীল সরঞ্জাম হতে পারে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি এমন কিছু তৈরি করতে সহায়তা করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলছেন, AI স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প রূপে বিবেচিত হতে পারে না, কারণ এতে মানবিক স্পর্শের অভাব থাকে।
মানবিক সৃষ্টির মূল গুণ হিসেবে তিনি ‘প্রামাণিকতা’কে তুলে ধরেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে মিক্সড সঙ্গীতের কিছু টুকরা অল্প সময়ের জন্য বিশাল প্রশংসা পায়, কিন্তু তা দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, মাইকেল জ্যাকসন ও দ্য উইকেন্ডের কণ্ঠস্বরকে একত্রিত করে তৈরি করা একটি ট্র্যাক, অথবা এ ট্রাইব কল্ড কুয়েস্টের “বোনিটা অ্যাপলবাম” গানের স্যাম্পলকে আল গ্রিনের সোল শৈলীতে রূপান্তরিত করা মিশ্রণগুলোকে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এই ধরনের সৃষ্টিগুলো যদিও অস্থায়ী সাফল্য অর্জন করে, ডিক্যাপ্রিও মনে করেন সেগুলো দীর্ঘমেয়াদী শিল্পের মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে না। তিনি যুক্তি দেন, সত্যিকারের শিল্পকর্মের জন্য সৃষ্টিকর্তার মানবিক অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি অপরিহার্য।
ডিক্যাপ্রিওর মন্তব্যগুলো চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান সিনেমা হলের দর্শকসংখ্যা হ্রাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সিনেমা হলগুলোকে নতুন রূপে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে তারা দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক থাকে।
সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগের পাশাপাশি, ডিক্যাপ্রিও শিল্পের সৃজনশীলতা রক্ষার জন্য প্রযুক্তি ও মানবিক উপাদানের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে নতুন গল্প বলার পদ্ধতি গড়ে তুলবে, তবে তা মানবিক স্পর্শ ছাড়া হবে না।
এই আলোচনার মূল বিষয় হল, সিনেমা হলের ভূমিকা কি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং সংস্কৃতি ও শিল্পের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হবে কিনা। ডিক্যাপ্রিওয়ের মতে, দর্শকদের আগ্রহ পুনরুদ্ধার করতে হলে সিনেমা হলগুলোকে এমন অভিজ্ঞতা প্রদান করতে হবে, যা বাড়িতে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায় না।
অবশেষে, তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের সকল অংশীদারকে আহ্বান জানান, যেন তারা একসাথে কাজ করে এমন পরিবেশ গড়ে তোলেন, যেখানে নতুন ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিকশিত হতে পারে, এবং দর্শকরা আবারও বড় পর্দার জাদুতে মুগ্ধ হতে পারে।



