যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শনিবার লন্ডন থেকে উল্লেখ করেন যে, সকল রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা মেনে চলা উচিত। এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযানের পর প্রকাশিত হয়, যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লন্ডন থেকে প্রেরিত বার্তায় স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাজ্য এই অপারেশনে কোনোভাবে যুক্ত নয় এবং তার কোনো অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বড় শক্তিগুলো একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। তিনি যুক্তি দেন, কোনো দেশই স্বেচ্ছায় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপে আন্তর্জাতিক নীতির লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
স্টারমার পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য সময়ের প্রয়োজন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধৈর্য ধরতে এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্য এখনও ভেনেজুয়েলার ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়নি, যেখানে মাদুরো তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। লন্ডনের সরকার এই ফলাফলকে বৈধতা না দিয়ে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভেনেজুয়েলার নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য শান্তিপূর্ণ ও সংলাপের মাধ্যমে ক্ষমতার হস্তান্তর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্টারমার উল্লেখ করেন, কোনো শক্তি যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অবহেলা করে ক্ষমতা বজায় রাখে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এই মন্তব্যকে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে এবং যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে অযৌক্তিক সমালোচনা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের নীতির প্রতি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেয়া হয় যে, এটি মাদুরোর শাসনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতান্ত্রিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের হস্তক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
স্টারমারের মন্তব্যের ফলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্য যদি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখে, তবে এটি অন্যান্য দেশকে সমানভাবে আইনের শাসন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত, কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষমতার হস্তান্তরের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। স্টারমার যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা যদি কার্যকর হয়, তবে ভেনেজুয়েলা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারে।
অবশেষে, যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নির্ধারণের ভিত্তি স্থাপন করে। আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এখনই প্রয়োজন।



