মার-এ-লাগো রিসোর্টে শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে মার্কিন সেনাবাহিনী ক্যারাকাসে এক রাতের আক্রমণে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে রাষ্ট্রপতি, পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে একটি দল ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কাজ করে দেশের শাসনভার গ্রহণ করবে।
ট্রাম্পের মতে, এই দল দেশের প্রশাসন সাময়িকভাবে পরিচালনা করবে যতক্ষণ না নিরাপদ, সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়। “আমরা দেশের শাসনভার নেব, যতক্ষণ না একটি সঠিক পরিবর্তন সম্পন্ন হয়,” তিনি বলেন। শাসনভার গ্রহণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের নীতি থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি নির্দেশ করে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পটভূমিতে তার পূর্বের বিদেশ নীতি রয়েছে, যেখানে তিনি “চিরকালীন যুদ্ধ” বিরোধিতা করেছেন এবং পূর্বের রেজিম পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তবু এখন তিনি দক্ষিণ আমেরিকায় একটি ভাঙা অর্থনীতি ও দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে অস্থিতিশীলতা ভোগ করা দেশকে পুনর্গঠন করার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তার প্রশাসনের “সফলতার নিখুঁত রেকর্ড” রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনেও একই ফলাফল আশা করা যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি কোম্পানিগুলোকে দেশের ধসে পড়া শিল্প অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তদুপরি, তিনি উল্লেখ করেন যে পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা সরাসরি ভেনেজুয়েলীয় জনগণের উপকারে আসবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। “আমরা মাটিতে পা রাখার ভয় পাই না… গত রাতে আমাদের পা সেখানে ছিল,” তিনি জানান। এই মন্তব্যটি পূর্বে ইরাক যুদ্ধের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের অবস্থানকে পরিবর্তন করে, এবং ইরাক যুদ্ধের অন্যতম স্থপতি কলিন পাওয়েলের “যদি তুমি ভাঙো, তবে তোমারই দায়িত্ব” কথাটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, তবে ট্রাম্পের দল ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন শুরু করেছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নীতি উভয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ট্রাম্পের দল ভেনেজুয়েলীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনিক কাঠামো স্থাপন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানবিক সহায়তা বিতরণে কাজ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই উদ্যোগের সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক নীতি সম্পূর্ণ নতুন দিকনির্দেশে পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে।



