বাংলাদেশের সর্বনিম্ন উন্নত দেশ (এলডিসি) ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসার শেষ সময়সীমা নভেম্বর ২০২৬, যা এখনো এক বছরের কম বাকি। সরকারী ঘোষণার পরেও, দেশের বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জানিয়েছে যে তারা এখনো পোস্ট‑এলডিসি বাস্তবতার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেনি।
প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির অভাব। দেশটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত হয়, তবে বর্তমানের পছন্দসই বাজার প্রবেশাধিকার বজায় রাখার জন্য নতুন চুক্তি না থাকলে রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতা হ্রাস পাবে।
অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলোও সমানভাবে তীব্র। অবকাঠামো ও লজিস্টিক্সের ঘাটতি, পণ্যের বৈচিত্র্যের সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদন খরচের উচ্চতা—all these factors diminish Bangladesh’s edge over regional rivals.
উৎপাদক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, সরকার যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া স্নাতক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করলে বর্তমানে পছন্দসই সুবিধা দ্বারা সুরক্ষিত রপ্তানি বিক্রয় থেকে বছরে কমপক্ষে ৮ বিলিয়ন ডলার হারাতে পারে।
অস্থায়ী সরকার পুনরায় নভেম্বর ২০২৬ স্নাতক সময়সীমা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (UNCDP)কে দেশের পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
UNCDP প্রথম মূল্যায়ন নভেম্বর ২০২২-এ সম্পন্ন করে, যেখানে ব্যবসা নেতৃবৃন্দ, নীতি নির্ধারক এবং অর্থনীতিবিদদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় রাউন্ড নির্ধারিত, যা দেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যবসা গোষ্ঠী এখন পরবর্তী সরকারকে কমপক্ষে ছয় বছর পর্যন্ত স্নাতক সময়সীমা বিলম্বের অনুরোধ জানাতে প্রস্তুত। তারা যুক্তি দিচ্ছে যে, পর্যাপ্ত সময় ছাড়া রপ্তানি সুবিধা হারিয়ে গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, এলডিসি গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ তার বার্ষিক রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার হারাতে পারে। এই ক্ষতি মূলত পছন্দসই বাজার প্রবেশাধিকার হ্রাসের ফলে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ৩৮টি দেশ ও বেশ কয়েকটি বাণিজ্য ব্লকে শুল্কমুক্ত বা পছন্দসই প্রবেশাধিকার উপভোগ করে। মোট রপ্তানির প্রায় ৭৩ শতাংশ এই সুবিধা থেকে উপকৃত।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ৪৬টি এলডিসি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এককভাবে মোট পছন্দসই সুবিধা ব্যবহারের ৬৭ শতাংশের দায়িত্বে রয়েছে। এই উচ্চ অনুপাত দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।
অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলছেন যে, এই পছন্দসই সুবিধা ছাড়া রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাবে, বিশেষত প্রস্তুত পোশাক, জুট, চামড়া ইত্যাদি প্রধান সেক্টরগুলোতে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে।
ঝুঁকি কমাতে সরকার ও শিল্পের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রধান বাজারগুলোর সঙ্গে নতুন পছন্দসই চুক্তি আলোচনা, লজিস্টিক্স অবকাঠামো আধুনিকায়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
সংক্ষেপে, এলডিসি স্নাতকের সময়সীমা দ্রুত এগিয়ে আসায় নীতি নির্ধারক, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমন্বিত কাজের প্রয়োজন। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া স্নাতক প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক প্রতিযোগিতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।



