যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, ১০ জানুয়ারি রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বেসামরিক নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি তুলে ধরেন।
বিবৃতি অনুসারে, বেসামরিক নির্দেশটি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসি) নির্দেশনা অনুসরণে নেওয়া হয়। ফলে, কলকাতা নাইট রাইডার্স, আইপিএল সিজনের অংশ হিসেবে, মোস্তাফিজুর রহমানকে তার চুক্তি রদ করে দল থেকে সরিয়ে দেয়। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়।
আসিফ নজরুলের মতে, এই সিদ্ধান্তটি “উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি শিকার” করে করা হয়েছে এবং তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের মর্যাদাকে আঘাত করে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মান রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। আসিফ নজরুল জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটার বা দেশের অবমাননা মেনে নেওয়া হবে না।
কোলকাতা নাইট রাইডার্সের সিদ্ধান্তের পর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতিমধ্যে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বকাপের প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ দলকে কলকাতা ও মুম্বাইতে তিনটি ম্যাচ খেলতে নির্ধারিত ছিল।
এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আইসিসির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যদি বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে না পারে, তবে পুরো দলকে নিরাপদ বলে দাবি করা যায় না।
বিসিবিকে তিনি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ জানাতে নির্দেশ দেন। এতে করে, বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে প্রায় দশ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর, আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি বিসিবিকে আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিসিবি থেকে আইসিসির কাছে একটি চিঠি পাঠানোর নির্দেশনা, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, আসিফ নজরুলের মতে, এই চিঠিতে বাংলাদেশ দলকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে অনুরোধ করা হবে।
মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল নিলামের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি ছিল। যদিও তিনি এখনো কোনো দল থেকে চুক্তি পায়নি, তবে এই আর্থিক মূল্য তার আন্তর্জাতিক মানকে নির্দেশ করে। তার বাদ দেওয়া, ক্রীড়া জগতে বড় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আসিফ নজরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া স্বার্থ রক্ষা করতে চান। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন, যাতে আইপিএল ম্যাচের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করা হয় এবং দেশের দর্শকদের এই ধরনের কন্টেন্ট থেকে রক্ষা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পদক্ষেপগুলো, মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ দেওয়া, আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি, সবই বাংলাদেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



