27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডলার ২০২৬ সালের শুরুর দিকে শক্তিশালী হয়ে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে

ডলার ২০২৬ সালের শুরুর দিকে শক্তিশালী হয়ে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে

মার্কিন ডলার ২০২৬ সালের প্রথম শুক্রবারে বেশ শক্তি সঞ্চার করেছে, যা গত বছরের বেশিরভাগ মুদ্রার বিপরীতে পতনের ধারাকে ভেঙে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আসন্ন সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের নীতি ও বৈশ্বিক বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

ডলারের এই উত্থান গত বছরের ৯% এর বেশি হ্রাসের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধির সূচক, যা অন্যান্য দেশের সুদের পার্থক্য কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর অব্যাহত উদ্বেগের ফলে ঘটেছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্য সংঘর্ষ এবং ফেডের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নও এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে।

পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিত হওয়া ডেটা, বিশেষ করে শুক্রবারের বেতন রিপোর্ট, ফেডের অতিরিক্ত সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে। বাজার ইতিমধ্যে দুইটি হ্রাসের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেছে, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে একটিমাত্র হ্রাসের মতামতও রয়েছে।

একজন ট্রেডিং ডিরেক্টর উল্লেখ করেছেন, “এটি মূল্যায়নের সময়, ফেডের বৈঠক মাসের শেষে, তবে কোনো ঐকমত্য নেই।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বন্ধের দীর্ঘায়ু ও অপ্রত্যাশিত প্রকৃতিকে ডেটার ব্যাখ্যা ও নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলতে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার জাপান ও চীনের বাজার বন্ধ থাকায় লেনদেনের পরিমাণ কম ছিল, ফলে ডলারের গতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডলার সূচক, যা একাধিক মুদ্রার তুলনায় ডলারের মান মাপতে ব্যবহৃত হয়, ০.২৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৪৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইউরোর মান ০.২৫% হ্রাস পেয়ে ডলারে $১.১৭১৬ হয়েছে।

ইউরো জোনের উৎপাদন কার্যকলাপ ডিসেম্বর মাসে নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে, একটি জরিপে প্রকাশিত হয়েছে। ইউরো গত বছর ১৩% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

ব্রিটিশ পাউন্ড ডলার তুলনায় ০.১৮% হ্রাস পেয়ে $১.৩৪৪৫ হয়েছে। পাউন্ড ২০২৫ সালে ৭.৭% বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক উত্থান।

বাজারের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডের নতুন চেয়ারম্যানের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল মে মাসে পদত্যাগের পর নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ডলারের এই উত্থান বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ইউরো ও পাউন্ডের তুলনায়। তবে ডেটা প্রকাশের পর ফেডের নীতি পরিবর্তন কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত।

বিনিয়োগকারীরা এখনো ডলারের শক্তি বজায় থাকবে কিনা এবং সুদের হার হ্রাসের গতি কী হবে, তা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই সময়ে কোনো স্পষ্ট ঐকমত্য না থাকায় বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে।

ডলারের শক্তি, ইউরোর দুর্বলতা এবং পাউন্ডের সামান্য হ্রাস একসাথে বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারের গতিপথকে পুনর্গঠন করছে। আগামী সপ্তাহের ডেটা, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য, এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করবে।

সারসংক্ষেপে, ডলার ২০২৬ সালের শুরুর দিকে শক্তিশালী হয়ে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে, এবং ফেডের নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বন্ধের প্রভাব এবং আসন্ন অর্থনৈতিক ডেটা ভবিষ্যৎ মুদ্রা গতিবিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments