বিনোদন জগতের নতুন দিগন্তে সুরজ পাঞ্চোলি প্রথম বায়োপিকের মুখে হাজির হচ্ছেন। তিনি ১৪শ শতাব্দীর গৌরবময় যোদ্ধা ভীর হামিরজি গোহিলের চরিত্রে অভিনয় করবেন, যার কাহিনী গুজরাটের সমনাথ মন্দির রক্ষার ঐতিহাসিক যুদ্ধে ভিত্তিক। চলচ্চিত্রটি প্রিন্স ধিমনের পরিচালনায় তৈরি, এবং এতে সুনীল শেট্টি, বিবেক ওবেরয় ও অঙ্ক্ষা শর্মা সহ এক শক্তিশালী কাস্ট যুক্ত হয়েছে।
সুরজের এই প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম বায়োপিক, যেখানে তিনি ভীর হামিরজি গোহিলের সাহসিকতা ও ত্যাগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবেন। গোহিলের নাম ইতিহাসে কমই শোনা যায়, তবে সমনাথ মন্দিরের রক্ষায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত। সুরজের এই চরিত্রে রূপান্তর তার অভিনয় দক্ষতার বহুমুখিতা প্রকাশের সুযোগ দেবে।
প্রিন্স ধিমন চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঘটনাকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছেন। তিনি বলেন, সমনাথ মন্দিরের রক্ষার গল্পে যে আত্মত্যাগ ও বীরত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পুনরুজ্জীবিত করা দরকার। তাই তিনি গল্পের মূল স্রোতকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে গবেষণা ও ঐতিহাসিক নথি ব্যবহার করেছেন।
চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটের জন্য বিশাল সেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাচীন গৃহ, রাজপ্রাসাদ ও যুদ্ধক্ষেত্রের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। প্রযোজক দল ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের নকশা ও রঙের সঠিকতা বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছে। ফলে দর্শকরা ১৪শ শতাব্দীর গুজরাটের পরিবেশকে সরাসরি অনুভব করতে পারবেন।
কাস্টের মধ্যে সুনীল শেট্টি, বিবেক ওবেরয় ও অঙ্ক্ষা শর্মা প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করছেন। শেট্টি চলচ্চিত্রে একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধার ভূমিকায় দেখা যাবে, আর ওবেরয় একটি কৌশলী কৌশলবিদের চরিত্রে অভিনয় করবেন। অঙ্ক্ষা শর্মা সমনাথ মন্দিরের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নারীর চরিত্রে উপস্থিত থাকবেন। এই নতুন সংমিশ্রণ দর্শকদের জন্য নতুন রসিকতা তৈরি করবে।
যুদ্ধের দৃশ্যগুলোতে বাস্তবিকতা আনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চোরোগ্রাফি করা হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার, ঘোড়ার দৌড় এবং তলোয়ারবাজির দৃশ্যগুলোকে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করেছে। ফলে অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো কেবল দৃষ্টিনন্দন নয়, ঐতিহাসিক সত্যের কাছাকাছি হবে।
চিত্রগ্রহণের সময় ঐতিহাসিক পটভূমি ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রেখে পোশাক, অলংকার ও সঙ্গীতের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি পোশাকের নকশা ও রঙের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে চরিত্রগুলো সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখায়। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে, যা দৃশ্যের আবহকে সমৃদ্ধ করবে।
প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রথম দৃশ্যের টিজার প্রকাশের অপেক্ষা চলছে, যা চলচ্চিত্রের রিলিজের আগে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুরজ পাঞ্চোলি এই ভূমিকায় নিজেকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দেখছেন। তিনি বলছেন, ভীর হামিরজি গোহিলের চরিত্রে আত্মসমর্পণ করে তিনি তার অভিনয় পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে চান। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সমনাথ মন্দিরের ইতিহাস ১৪শ শতাব্দীতে মুসলিম শাসকের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য গৃহীত যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। গোহিল ও তার সঙ্গীরা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন, যা ঐ সময়ের সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। চলচ্চিত্রটি ঐ ঐতিহাসিক মুহূর্তকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলবে।
চলচ্চিত্রের রিলিজ তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্মাণ দল জানিয়েছে যে শীঘ্রই প্রথম দৃশ্যের টিজার প্রকাশ করা হবে। এই টিজার দর্শকদের মধ্যে আরও বেশি কৌতূহল ও প্রত্যাশা জাগাবে। চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত দর্শকদেরকে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে আধুনিক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা উপভোগের সুযোগ দেবে।
সামগ্রিকভাবে, সুরজ পাঞ্চোলি, সুনীল শেট্টি, বিবেক ওবেরয় ও অঙ্ক্ষা শর্মার সমন্বয়ে গঠিত এই ঐতিহাসিক নাটকটি গুজরাটের সমনাথ মন্দিরের রক্ষার গৌরবময় কাহিনিকে বড় পর্দায় তুলে ধরবে। দর্শকরা আশা করতে পারেন চমৎকার দৃশ্যাবলি, সঠিক ঐতিহাসিক পরিবেশ এবং শক্তিশালী অভিনয়ের সমন্বয়। এই প্রকল্পটি ইতিহাসপ্রেমী ও সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



