ব্রাইটন এফসি তার হোম গ্রাউন্ডে বার্নলিকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ছয় ম্যাচের জয়হীনতা শেষ করেছে। গেমটি প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই ছিল, যেখানে বার্নলি টেবিলের শেষ দুই দলে অবস্থান করছিল। গেমের শেষ ফলাফল ব্রাইটনের ১৪তম স্থানে থাকা অবস্থাকে শক্তিশালী করেছে, আর বার্নলির পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রথমার্ধে গর্জেনিও রাটারের গোল দলকে প্রারম্ভিক সুবিধা এনে দেয়। রাটার ২৯তম মিনিটে প্রথম শটকে লক্ষ্যবস্তু করে গোলের সিঁড়ি বেয়ে গিয়ে স্কোরকে ১-০ করে তুলেছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ইয়াসিন আয়ারির দ্রুত আক্রমণ দলকে আরও এক গোলের সুবিধা দেয়। আয়ারি পেনাল্টি এলাকার প্রান্তে থেকে শক্তিশালী শট মারেন, যা গোলরক্ষকের কাছে পৌঁছাতে না পেরে নেটের মধ্যে গিয়ে স্কোরকে ২-০ করে দেয়।
বার্নলির আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা তবু সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়নি। লুম তচৌনা দ্বিতীয়ার্ধে একবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছান, তবে শেষ মুহূর্তে শটটি লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হয়। বার্নলির তরুণ ডিফেন্ডার চার্লামপোস কোস্টুলাস, যিনি এই ম্যাচে তার প্রথম প্রিমিয়ার লিগ স্টার্ট করেন, দশম মিনিটে অফসাইডের সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তে একটি সম্ভাব্য গোলের সুযোগ হারান। তবে ব্রাইটন পুরো ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য বজায় রাখে এবং ২৯তম মিনিটে প্রথম শটকে লক্ষ্যবস্তু করে গোলের দিকে নিয়ে যায়, যা রাটারের গোলের পূর্বে দলকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বার্নলির বর্তমান অবস্থানকে বিবেচনা করলে, দলটি এখনো ১৭তম স্থানে রয়েছে এবং নটিংহাম ফরেস্টের থেকে ছয় পয়েন্টের পিছিয়ে। তাদের জয়হীনতার ধারাবাহিকতা এখন ১১ ম্যাচে পৌঁছেছে, যা ক্লাবের রক্ষণশীলতা এবং আত্মবিশ্বাসের উপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। কোচ স্কট পার্কার গেমের পর দলের মনোভাব নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলটি বিশ্বাসের অভাব দেখিয়েছে এবং আমি এক মুহূর্তের জন্যও অনুভব করিনি যে তারা এখানে এসে ফলাফল অর্জন করতে পারবে।” পার্কার আরও যোগ করেন যে, “আমরা কখনোই খেলায় প্রবেশ করিনি, আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেহভঙ্গি থেকে স্পষ্ট যে আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করিনি।” তিনি দলের পারফরম্যান্সকে “পাউডার পাফ” হিসেবে বর্ণনা করে তার হতাশা প্রকাশ করেন।
পার্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তার চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ক্লাবের উচ্চপদস্থদের হাতে। তিনি ক্লাবের মালিকানার পূর্ণ সমর্থন এবং সকল কর্মীর সঙ্গে তার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি, আমরা সবাই হতাশ, তবে আমরা এগিয়ে চলব।” পার্কার দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার মন্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, যদিও তিনি সরাসরি নিজের পদত্যাগের ইঙ্গিত দেননি।
ব্রাইটনের লিগে অবস্থান এখনো ১৪তম, যেখানে ডিসেম্বরের মধ্যে তারা ১৮টি সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে মাত্র তিনটি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। এই ম্যাচের জয় তাদের পয়েন্টের সংখ্যা বাড়িয়ে টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে স্থিতিশীলতা এনেছে। অন্যদিকে, বার্নলি অক্টোবর থেকে ৩০টি সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে মাত্র দুইটি পয়েন্টই অর্জন করতে পেরেছে, যা তাদের নিম্নমুখী প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে।
পরবর্তী ম্যাচে, ব্রাইটনকে হোমে লিভারপুলের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে তারা টেবিলের উপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বার্নলি meanwhile will travel to face a top-six side, hoping to halt their slide and collect vital points to stay clear of the relegation zone. উভয় দলই এই গেমের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল, কারণ পয়েন্টের ঘাটতি তাদের মৌসুমের শেষের দিকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ব্রাইটনের রুটার এবং আয়ারির গোলের মাধ্যমে অর্জিত জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন ঢেউ এনে দিয়েছে, আর বার্নলির কোচ পার্কার দলের মনোভাবের ঘাটতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। উভয় দলের পরবর্তী গেমে পারফরম্যান্সই তাদের মৌসুমের দিক নির্ধারণ করবে।



