মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে জানান, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে ক্ষমতায় বসানো সম্ভব হবে কিনা তা এখনই নির্ধারণ করতে হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পেছনে ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসন ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রশ্ন উন্মোচিত হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের সময় তিনি ফক্স নিউজের একটি প্রশ্নের উত্তর দেন, যেখানে মাচাদোকে সমর্থন করা হবে কিনা তা জানার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মাচাদো বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থান করছেন, এবং ট্রাম্পের মতে, তার নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা কীভাবে পরিবর্তন আসবে তা এখনই পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন, তবে তিনি এই পদধারীর নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তিনি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। মাদুরোর নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেন।
মাদুরোর শাসনকালে ভেনেজুয়েলা যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল, তা ট্রাম্পের মন্তব্যে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদুরোর শাসনকালে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে, যা বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতৃত্বের উত্থানের পটভূমি গঠন করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যারও উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মাদকের কারণে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, এবং এই প্রবণতা অব্যাহত না রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন। এই মন্তব্যটি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি সংক্রান্ত উদ্বেগকে একসাথে তুলে ধরে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলার সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, দেশের সংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে না, যদি না তা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
মাচাদোর সমর্থকদের মতে, তার নরওয়েতে থাকা অবস্থান আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের একটি কৌশল। তারা দাবি করে, মাচাদো ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব প্রদান করতে সক্ষম। ট্রাম্পের মন্তব্যকে তারা একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারী দল মাচাদোর রাজনৈতিক কার্যক্রমকে ‘বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর অনধিক হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছা ও সংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতে।
বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পুনরায় প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রকাশনা ভেনেজুয়েলা সহ অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকান দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সমর্থন পরিবর্তনশীল।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ পর্বে কী ঘটতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, মাচাদোর ফিরে আসা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন তার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বাড়াবে, অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ অব্যাহত থাকলে কোনো স্থিতিশীল সরকার গঠন কঠিন হবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা মাচাদোর নরওয়েতে অবস্থান, তার রাজনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমর্থনকে কেন্দ্র করে বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তবে সবই একই রকম যে, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের মন্তব্য ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক আলোচনার সূচনা করেছে। মাচাদোর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গঠন—all these factors will shape the next steps in the country’s political journey।



