প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে বড় পরিমাণে মূলধন ঢালতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের ফলে দেশের তেল খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে আমেরিকান কোম্পানিগুলো প্রস্তুত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আজ (৩ জানুয়ারি ২০২৬) আল জাজিরার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দীর্ঘ সময় ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দিকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশটি তার সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা সত্ত্বেও সামান্যই তেল বের করতে পারছে, ফলে তেল শিল্পের অবকাঠামো ধ্বংসের পথে। এই পরিস্থিতি, তিনি যুক্তি দেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত দরজা তৈরি করেছে।
প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় তেল সংস্থাগুলো, যেগুলোকে তিনি “বিশ্বের সেরা” বলে বর্ণনা করেন, ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। এই সংস্থাগুলোকে বিলিয়ন ডলার খরচ করে ভাঙা তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিনিয়োগ করতে হবে বলে তিনি জানান। অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশীয় তেল বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করা হবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লেখিত এই বিনিয়োগের ফলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোকে নতুন বাজার ও সম্পদে প্রবেশের সুযোগ মিলবে, আর ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই বিনিয়োগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
এ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর দেশীয় মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে সরকারী প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুবার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা গেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং তেল রপ্তানি সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের এই নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা, তাই, পূর্বের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে একটি পরিবর্তনসূচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই বিনিয়োগের ঘোষণার ফলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চুক্তির শর্তাবলী উল্লেখ না থাকায় প্রকৃত বাস্তবায়ন কত দ্রুত হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ দেশীয় শক্তি কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং অঞ্চলে আমেরিকান প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার সরকারকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, ট্রাম্পের অফিসিয়াল দলবন্দি ভেনেজুয়েলার তেল সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট আলোচনার সূচি বা অংশীদারদের নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে শীঘ্রই মিটিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো সংস্কারে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনকে পুনরুজ্জীবিত করা। ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



