সংযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল সংস্থাগুলোর প্রবেশের অনুমতি দেবেন বলে জানিয়ে একটি প্রেস কনফারেন্সে দেশীয় তেল সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বিশাল কাঁচা তেল রিজার্ভে প্রবেশ করে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভ অর্জন করবে।
প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলার ধ্বংসপ্রাপ্ত তেল অবকাঠামোকে পুনর্নির্মাণে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা এবং দ্রুত তেল উৎপাদন পুনরায় চালু করা। তিনি যুক্তি দেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে এবং তেল বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পেছনে সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযান রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনকে লক্ষ্যবস্তু করে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই অভিযানকে ট্রাম্প ‘নেতৃত্বের পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে পরিবর্তন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের প্রধান তেল ক্ষেত্রগুলোতে পুরনো সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা সমস্যার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমস্যাগুলো সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করা হবে।
প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলোতে বিশাল পরিমাণে মূলধন বিনিয়োগ করবে, অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়াবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বৃদ্ধি পাবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে।
ট্রাম্প এছাড়াও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শাসনাধীন থাকবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং তেল শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠী এই ঘোষণাকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা যুক্তি দেয়, তেল সম্পদকে বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি করবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে। তদুপরি, তেল শিল্পের পুনর্গঠনে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও পরিবেশগত প্রভাবের প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে, তবে অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও কিছু ইউরোপীয় দেশ তেল শিল্পে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে এবং অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। তেল রপ্তানি ও মূল্য নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গ্লোবাল তেল বাজারে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি জানিয়েছেন, তৎক্ষণাৎ বিনিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হবে এবং অবকাঠামো মেরামতের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি কাজ শুরু করবে এবং তেল উৎপাদন পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



