গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের ম্যাচে সেলটিক পার্কের হোস্ট দল র্যানার্সের কাছে পরাজিত হয়ে শীর্ষস্থানীয় চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে পয়েন্ট সমান করে। অর্ধেকের সময় সেলটিকের হাতে নেতৃত্বের সুবিধা থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দলটি গতি হারিয়ে শেষ পর্যন্ত হারের মুখে পড়ে।
এই পরাজয় কোচ উইলফ্রেড ন্যান্সির জন্য কঠিন সময়ের সূচনা করে। ডিসেম্বর মাসে কলম্বাস ক্রু থেকে সেলটিকের দায়িত্বে আসা ন্যান্সি এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি হার দিয়ে কঠিন রেকর্ড বজায় রেখেছেন। তার অধীনে দলটি ধারাবাহিকভাবে ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
ম্যাচের পর সেলটিক পার্কের বাইরে ভক্তদের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। শত শত সমর্থক বোর্ড এবং কোচের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তীব্র স্লোগান ও চিৎকারের মাধ্যমে তাদের রাগ প্রকাশ করে। ভক্তদের এই প্রতিবাদে বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সন্দেহ এবং ন্যান্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়।
ক্লাবের বোর্ডের মধ্যে ন্যান্সি বাদ দিয়ে মার্টিন ও’নিলকে পুনরায় আহ্বান করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ও’নিলের পূর্ববর্তী অস্থায়ী মেয়াদে সাফল্য অর্জনের পর, ক্লাবের অভ্যন্তরে তার ফিরে আসার দাবি বাড়ছে। তবে ন্যান্সি এই পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন।
কোচ ন্যান্সি মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি নিজের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করছেন না, বরং দলকে বিশদে উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, “ফলাফলই চাপের মূল, তবে আমরা এখনো হাল ছাড়িনি; আমরা পরিবর্তনের কাছাকাছি।” এই বক্তব্যে তিনি দলের পারফরম্যান্সের ইতিবাচক দিকগুলোকে তুলে ধরেছেন।
ন্যান্সি আরও উল্লেখ করেন, অর্ধেকের সময় সেলটিকের খেলায় উচ্চ মানের মুহূর্ত দেখা গিয়েছিল, যা তিনি “খুবই উঁচু স্তর” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত গোল করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা এবং সমাপ্তির ত্রুটি দলকে হারের দিকে নিয়ে গিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, “আমরা আরও বেশি গোল করতে পারতাম, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।”
কোচের মতে, দলের বর্তমান অবস্থা বিশদে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিস্তারিত, বিস্তারিত, বিস্তারিত”—এটাই তিনি দলের উন্নতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি প্রশিক্ষণ ও কৌশলে সূক্ষ্ম সমন্বয় আনতে চান।
সেলটিকের এই পরাজয় র্যানার্সের সঙ্গে পয়েন্ট সমান করে, যা শিরোপা রক্ষাকারী দলকে আবার শীর্ষে ফিরিয়ে দেয়। ম্যাচের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যায়, সেলটিকের অর্ধেকের আগে নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও, দ্বিতীয়ার্ধে র্যানার্সের আক্রমণাত্মক চাপ বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সমতা রক্ষা করে।
ভক্তদের প্রতিবাদে ক্লাবের অভ্যন্তরে বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি চাপ বাড়ছে। ন্যান্সি যদি স্যাকের মুখোমুখি হন, তবে ক্লাবের নেতৃত্বের মধ্যে মার্টিন ও’নিলের পুনরায় নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে ন্যান্সি এই সম্ভাবনাকে স্বীকার না করে, “আমি বোর্ডের সঙ্গে একসাথে কাজ করছি” বলে দৃঢ় অবস্থান নেন।
ক্লাবের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে সেলটিকের জন্য এই পরাজয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। কোচ ন্যান্সি দলের মনোবল বাড়াতে এবং পরবর্তী গেমে ফলাফল পরিবর্তন করতে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন।
সারসংক্ষেপে, সেলটিকের র্যানার্সের বিরুদ্ধে হারের ফলে কোচ ন্যান্সির অবস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে, ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের ঢেউ উঠেছে এবং ক্লাবের বোর্ডে নেতৃত্বের পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়েছে। ন্যান্সি নিজের কাজের উপর দৃষ্টি রেখে, “আমরা পরিবর্তনের কাছাকাছি” বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি এখনই গুরুত্বপূর্ণ। ভক্তদের প্রত্যাশা, বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং কোচের কৌশলগত পরিবর্তন একসাথে সেলটিকের পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করবে।



