গত শুক্রবারের ডার্বি ম্যাচে রেঞ্জার্স ২-১ গোলে সেলটিককে পরাজিত করে, ফলে ক্লাবের প্রধান কোচ উইলফ্রেড ন্যান্সির অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। ন্যান্সি প্রেস কনফারেন্সে সময়, প্রেক্ষাপট এবং বোঝাপড়া চেয়েছিলেন, তবে ফলাফল তার চাকরির নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরাজয় ন্যান্সির আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি হারের ধারাবাহিকতা হিসেবে রেকর্ড হয় এবং সেলটিকের পরিচালনা পর্ষদকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সেলটিকের আক্রমণাত্মক খেলায় উজ্জ্বলতা দেখা যায়। জোনি কেনি একদমই দেরি না করে জ্যাক বাটল্যান্ডের গলপোস্টের দিকে একটি পাস পাঠায়, যা সেলটিকের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এই মুহূর্তে সেলটিকের আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে রেঞ্জার্সের রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে, এবং শেষ পর্যন্ত ইয়াং হ্যুং-জুনের একটি চমৎকার শট গলপোস্টের উপরে গিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করে। ইয়াংের এই গোল সেলটিককে প্রথমার্ধে ১-০ সুবিধা দেয়।
রেঞ্জার্সের প্রতিক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় না, তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা ধীরে ধীরে গেমের প্রবাহ পরিবর্তন করে। রেঞ্জার্সের আক্রমণকারী ইউসুফ চেরমিটি দুইটি গোলের মাধ্যমে ম্যাচের রিদম বদলে দেয়। প্রথম গোলটি তিনি পেনাল্টি এলাকার কাছাকাছি অবস্থান থেকে মারতে সক্ষম হন, যা সেলটিকের রক্ষাকে অস্থির করে। পরবর্তী গোলটি চেরমিটি আবারই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্কোর বাড়িয়ে দেয়, ফলে রেঞ্জার্সের স্কোর ২-১ হয়ে যায়।
ম্যাকি মুরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল ছিল, যা রেঞ্জার্সের জয় নিশ্চিত করে। মুরের গোলটি রেঞ্জার্সের আক্রমণকে শেষ পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করে, এবং সেলটিকের প্রতিরক্ষা এই মুহূর্তে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না। রেঞ্জার্সের গলকিপার জ্যাক বাটল্যান্ডের পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য, যদিও প্রথমার্ধে তিনি কয়েকটি শট থেকে রক্ষা করতে পারেননি, তবে শেষের দিকে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জন্য সুবিধা বজায় রাখেন।
সেলটিকের ভক্তরা ম্যাচের শুরুতে উত্তেজনা প্রকাশ করলেও, রেঞ্জার্সের দ্রুত সমন্বয় এবং চেরমিটির দু’গোলের পর তাদের মনোবল কমে যায়। স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রথমার্ধে পুরনো ফার্মের মতো গরম হয়ে ওঠে, তবে রেঞ্জার্সের গেমের পরিবর্তন সেলটিকের সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করে।
এই পরাজয় সেলটিকের বর্তমান অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ন্যান্সি এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচে ছয়টি হারেছেন, এবং রেঞ্জার্সের সঙ্গে সমান পয়েন্টে পৌঁছেছেন। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদকে এখন ন্যান্সির সঙ্গে চুক্তি চালিয়ে যাবে নাকি তাকে বদলে নতুন কোচ আনবে, তা নিয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ন্যান্সির প্রেস কনফারেন্সে তিনি সময় এবং সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করলেও, ফলাফল তার দাবিগুলোকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সেলটিকের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত। দলটি শীঘ্রই লিগের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে ন্যান্সি বা নতুন কোচের নেতৃত্বে দলকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। রেঞ্জার্সের সঙ্গে সমান পয়েন্টে থাকা সেলটিকের জন্য এই ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পয়েন্টের পার্থক্য লিগের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনা নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, রেঞ্জার্সের ডার্বিতে জয় সেলটিকের জন্য বড় ধাক্কা, এবং উইলফ্রেড ন্যান্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদকে এখন দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দলটি লিগের শীর্ষে ফিরে আসার সুযোগ পায়।



