যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক হামলার পর নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে দেশ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। মাদুরোকে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে তার বর্তমান অবস্থান ও জীবিত থাকার প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রুদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নীতি এবং মাদুরোর শাসনকে দুর্বল করার লক্ষ্য রয়েছে।
মাদুরোর গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রের দফতর জানিয়েছে যে তাকে আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র পাচার ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাদুরোর পরিবার ও ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
ল্যাটিন আমেরিকায় ১৯৮৯ সালের প্যানামা আক্রমণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো উদাহরণ দেখা যায়নি। প্যানামা আক্রমণে তৎকালীন সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগা অপসারণের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি পরিবর্তন করা হয়েছিল, তবে এখন আবার কারাকাসে সরাসরি হামলা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে মাদুরোর শাসনকে মাদক পাচার ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা ভেনেজুয়েলায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বলে দাবি করা হয়।
কারাকাসের কেন্দ্রীয় এলাকায় সংঘটিত এই আক্রমণটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে গর্জনময় বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছে এবং নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কঠোরমনা কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে মাদুরোর শাসনকে শেষ করার জন্য একটি বড় জয় হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক আইনি নীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঐ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাদুরোর প্রতি অস্বীকৃতি আরও দৃঢ় হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্পের ঘোষণাকে তার শাসনের শেষের সংকেত হিসেবে দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যকে সম্পূর্ণভাবে শাসন পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সরকার দাবি করে যে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের পেছনে ভেনেজুয়েলার সম্পদ ও তেল চুরি করার ইচ্ছা রয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলো এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ, মাদুরোর আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের সম্ভাবনা এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে এই ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের ওপরও অনুরূপ পদক্ষেপের প্রেরণা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের মাদুরো গ্রেফতার ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইনি নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শাসন পরিবর্তনের প্রশ্নগুলো জটিলভাবে জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই ঘটনা ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি পুনর্বিবেচনার সূচক হতে পারে।



