যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কেন্দ্রীয় অংশ থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করার সম্ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। যদি সত্যি হয়, আধুনিক ইতিহাসে এটি অনন্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই সম্ভাব্য অপারেশনকে ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্যানামা অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে তৎকালীন নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগা গ্রেফতার হয়েছিল। নরিয়েগা সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘর্ষের পর ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেয় এবং ১১ দিন পর মানসিক কৌশল ব্যবহার করে আত্মসমর্পণ করে।
মাদুরোর ওপর চালিত অভিযানের বিশদ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে বোঝা যায় যে এটি বৃহৎ পরিসরের এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা। অপারেশনের প্রকৃতি, ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।
মাদুরোর ভবিষ্যৎ কী হবে তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি তিনি গ্রেফতার হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কারাগারে বন্দি হতে পারেন, যা নরিয়েগার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ টেলিভিশনে মাদুরোকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন। এই মন্তব্যটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের সামরিক আক্রমণের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করেন।
হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, ফলে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। সরকারী সূত্রের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই আক্রমণকে ভেনেজুয়েলীয় কর্তৃপক্ষের মতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রাত দুইটায় কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা প্রদান করে।
অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাদুরোর অনুপস্থিতি বা গ্রেফতার দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করতে পারে, যা বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য সুযোগসুবিধা তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলোরও এই বিষয়ে অবস্থান প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অপারেশন এখনও অনিশ্চিত, তবে এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। ভবিষ্যতে কোন ধাপগুলো নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধির উপর।



