ভেনেজুয়েলা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আজ দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও প্রথম লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের তাত্ক্ষণিক জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন। এই দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর, যেখানে তিনি ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তার ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট ও প্রথম লেডিকে আটক করেছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভেনেজুয়েলার সরকার জানিয়েছে যে, উভয় নেতার সঠিক অবস্থান অজানা থাকলেও, তাদের জীবিত থাকার প্রমাণের জন্য তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রদ্রিগেজের মতে, সরকারকে উভয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো তৎক্ষণাৎ সামরিক বাহিনীর মোতায়েনের ঘোষণা দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাদ্রিনো উল্লেখ করেন, “আমরা মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণ করছি এবং যে কোনো আক্রমণকে সহ্য করতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, “বাহ্যিক হুমকি আমাদের দমন করতে পারবে না।”
পাদ্রিনোর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সামরিক বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েন শুরু করেছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপকে সহ্য করবে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, কারণ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এখন মাদুরো ও ফ্লোরেসের অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন আহ্বান করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। রদ্রিগেজের দাবি অনুসারে, যদি প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
এই ঘটনার ফলে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। বিরোধী দলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে ব্যবহার করে সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে, আর বর্তমান শাসক দলটি জাতীয়তাবাদী রেটোরিকের মাধ্যমে জনমতকে একত্রিত করার চেষ্টা করবে।
ভবিষ্যতে কী ধাপ নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ভেনেজুয়েলা সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। অন্যদিকে, যদি দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরো ও ফ্লোরেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন খুঁজছে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, তাই পরবর্তী বিকাশের জন্য নজর রাখা জরুরি।



