মেহেরপুর সদর উপজেলার ধূষরপাড়া এলাকায় শনিবার বিকেল ৪:৩০ টার কাছাকাছি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব‑১২) ও সিপিসি‑৩ দল এক যৌথ অভিযান চালায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অপারেশনে ৩০ বছর বয়সী সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শ্যামপুর গ্রামের মৃত আলহামদু মিয়ার পুত্র, যিনি সম্প্রতি মেহেরপুরে বসবাস করতেন।
অভিযানের সময় সাদ্দাম হোসেনের দেহ তল্লাশি করা হয় এবং ৯০ পিস ইয়াবা (মেথ্যামফেটামিন) উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাজারে এই পরিমাণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭ হাজার টাকা হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। তল্লাশির সময় কোনো অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বা অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
র্যাব‑১২ ও সিপিসি‑৩ দলের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার আল মামুন চিশতী জানিয়েছেন, মাদক পাচার সংক্রান্ত গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ধূষরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি ও গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় কোনো সহিংসতা বা প্রতিবাদ ঘটেনি; অভিযানের সকল ধাপ আইনগত প্রোটোকল অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি নথি প্রস্তুত করে তাকে মেহেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিরুদ্ধে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন।
অভিযানটি র্যাব‑১২ ও সিপিসি‑৩ দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল, যা মেহেরপুর জেলায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবাহ রোধে চলমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে একই ধরনের গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযান চালিয়ে মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে পরিকল্পনা করছে।
মেহেরপুর সদর থানার তদন্তকর্তারা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সন্দেহভাজন ও সম্ভাব্য গুদামস্থল অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহে লিপ্ত। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে জনসাধারণের সহযোগিতা চাচ্ছে।
মেহেরপুরে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান এই কঠোর পদক্ষেপগুলি ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



