সিলেটের একটি সম্মেলনে প্রাক্তন বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্যাপ্টেন খালেদ মাহমুদ সুজন ও মোহাম্মদ আশরাফুল, কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। দুজনই জোর দেন যে ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে মেশানো উচিত নয় এবং এই বিষয়টি সঠিকভাবে না সামলালে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সুজন উল্লেখ করেন, যদি এই বিতর্কের ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে তা সরাসরি বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সরকারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)‑এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি একটি বিকল্প প্রস্তাব করেন, যেখানে বাংলাদেশ দলকে ভবিষ্যৎ বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
বিশেষ করে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করে সুজন বলেন, যদি সব ম্যাচই ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই প্রস্তাবটি দেশের ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
আশরাফুলের মন্তব্যও সমানভাবে তীব্র। তিনি জানান, ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি সম্পূর্ণভাবে শকড বোধ করেছেন এবং ক্রিকেট ও রাজনীতির মিশ্রণকে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন। তার মতে, ক্রিকেটের মাঠে থাকা উচিত এবং বাইরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জায়গা নেই।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল ক্যারিয়ারের উল্লেখ না করা যায় না। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ৯.২ কোটি টাকা বিডের মাধ্যমে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যের বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের মর্যাদা অর্জন করেন। ২০১৬ সালে সানরাইজারস হায়দ্রাবাদের হয়ে ডেবিউ সিজনে তিনি ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ পুরস্কার জিতেছিলেন, যা এখনো একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড়ের অর্জন।
আশরাফুল বলেন, এই বিডের মাধ্যমে মুস্তাফিজুরের সত্যিকারের মূল্যায়ন হয়েছে এবং তিনি আইপিএলে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তবে এখন তাকে খেলতে না পারা ভক্তদের জন্য বড় ধাক্কা, যা প্রায় ১.৮ কোটি মানুষের হৃদয়কে আঘাত করেছে। তিনি এই পরিস্থিতি ‘দুঃখজনক’ এবং ‘অনুপ্রেরণার ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
দুই প্রাক্তন ক্যাপ্টেনই একমত যে এই বিষয়টি এতদূর পৌঁছানো উচিত ছিল না। তারা জোর দেন, ক্রিকেটের সমস্যাগুলো মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং কোনো বহিরাগত চাপের কারণে খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
শেষে, সুজন ও আশরাফুল উভয়েই বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এবং ন্যায্য সমাধান বের হলে দেশের ক্রিকেটে পুনরায় আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সুরক্ষিত থাকবে।



