19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কিন সামরিক আক্রমণ ক্যারাকাসে, নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার

মার্কিন সামরিক আক্রমণ ক্যারাকাসে, নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার

সোমবার রাতের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর আক্রমণ ক্যারাকাসে সংঘটিত হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার তথ্য প্রকাশিত হয়। এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ভেনেজুয়েলা নীতি ও নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে হুগো চাভেজের ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে যায়। চাভেজের বামপন্থী নীতি ও তেল রপ্তানি নীতিগুলি ওয়াশিংটনকে অস্বস্তিকর করে তুলেছিল।

২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ. বুশের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা টেররবিরোধী সহযোগিতার অভাবে ভিত্তিক ছিল।

২০১০ সালের মধ্যে দু’দেশের দূতাবাসগুলো একে অপরের রাজধানী থেকে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে কূটনৈতিক সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চাভেজের ২০১৩ সালে ক্যান্সার রোগে মৃত্যু এবং তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরোর শাসন গ্রহণের পর, বারাক ওবামা প্রশাসন ২০১৪-১৫ সালে ভেনেজুয়েলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ জব্দ এবং ভিসা নিষিদ্ধ করে।

ওবামা সরকার মাদুরোর বিরোধী প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমনকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে আসে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ২০১৭ সালে আরেকটি সিরিজ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সদস্য ও সংসদের ক্ষমতা হ্রাসকারী কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত।

২০১৫ সালের পর থেকে বিরোধী দল সংসদ নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে মাদুরো একটি সংবিধানিক সমাবেশ গঠন করে সংসদের ক্ষমতা অতিক্রম করে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর ব্যক্তিগত সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রথমবারের মতো সামরিক বিকল্পের কথা উল্লেখ করে।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সরকারী বন্ড ও জাতীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর বন্ড ক্রয় নিষিদ্ধ করে, যা দেশের আর্থিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

মাদুরোর ২০১৯ সালের পুনর্নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ অবৈধ বলে গণ্য করে, ফলে তারা বিরোধী নেতা হুয়ান গুইডোরকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তীব্র করে।

এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ক্যারাকাস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক কেটে দেয়।

২০২৬ সালের শনিবারে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর আক্রমণ ক্যারাকাসের কেন্দ্রীয় অংশে সংঘটিত হয়, যেখানে মাদুরোর অবস্থান সনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করার দাবি করা হয়। আক্রমণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে কিছু প্রাণহানি ঘটেছে।

মার্কিন সরকার এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করে, এবং মাদুরোর শাসনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে।

ভেনেজুয়েলার সরকার আক্রমণকে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা করে, মাদুরোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিযোগ করে।

বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করছেন, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক চাপের সমন্বয় নতুন কূটনৈতিক গতি নির্ধারণ করবে।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও নীতি-নির্ধারণে নতুন বিতর্কের উদ্ভব হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments