ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে ৯টি দেশের দল একত্রিত হয়ে প্রথম CAS আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ইন্টারন্যাশনাল স্কোয়াশ ফেডারেশন ও সেনাপ্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে দেশীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত।
ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও জাপান, বেলজিয়াম, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, হংকং, কুয়েত, বাহরাইন ও মিশরের দলগুলো অংশগ্রহণ করছে। মোট ২৪ জন নির্বাচিত খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় মাঠে নামবে।
প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চীফ এবং স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মু. হাসান‑উজ‑জামান মঞ্চে গিয়ে তালি পেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদেল আল‑গালিব উপস্থিত ছিলেন। তদুপরি, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক (অবসরপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম এবং নির্বাহী পর্ষদের অন্যান্য সদস্য, পাশাপাশি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল ইসলাম উদ্বোধন সমারোহে দেশের স্কোয়াশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের স্কোয়াশ কোর্টের অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে গত পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে খেলাটিকে পুনর্জীবিত করা হয়েছে।
কামরুলের কথায় উল্লেখযোগ্য যে, স্কোয়াশের বিকাশে বহু বাধা সত্ত্বেও খেলোয়াড় ও কোচরা সীমিত সুযোগে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশীয় খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে যখন স্কোয়াশের অবস্থা প্রায় নিঃশেষের কাছাকাছি ছিল, তখন থেকেই ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আজ ২৪ জন শীর্ষ খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ দিয়েছে।
কামরুলের মতে, স্কোয়াশের পুনর্জন্মের এই পর্যায়ে দেশের গৌরব ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, যদি স্থায়ী ও আধুনিক স্কোয়াশ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা যায়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মেডেল জেতা এবং দেশের ক্রীড়া চিত্র উজ্জ্বল করা সম্ভব হবে।
ফেডারেশন এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমর্থন কামনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত হলে স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশকে গর্বিত করতে পারবে।
প্রতিযোগিতা আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে চলবে। প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শীর্ষ খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে স্কোয়াশের কৌশল ও শারীরিক দক্ষতা প্রদর্শন করবে।
এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্কোয়াশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি, বিদেশি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দেশের ক্রীড়া নীতি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, ৯টি দেশের ২৪ জন শীর্ষ খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা, দেশের স্কোয়াশের পুনর্জন্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী অবকাঠামো ও সমর্থন নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশের মানচিত্রে উজ্জ্বল স্থান দখল করতে পারবে।



