ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীর্স স্টার্মার আজ ভেনেজুয়েলা রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত আক্রমণ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই অপারেশনে কোনোভাবে জড়িত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্টার্মার উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং তিনি প্রথমে তথ্য যাচাই করে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সংগ্রহের পরই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব হবে।
ব্রিটেনের কিছু রাজনৈতিক নেতার তুলনায় স্টার্মার এই ঘটনায় সরাসরি নিন্দা না করে তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাজের প্রতি তাত্ক্ষণিক সমালোচনা না করে, পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার পরই যথাযথ মন্তব্য করবেন বলে ইঙ্গিত দেন।
প্রধানমন্ত্রী এছাড়াও জানান, ব্রিটিশ দূতাবাস ভেনেজুয়েলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যাতে দেশের মধ্যে বসবাসরত প্রায় পাঁচশো ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
ব্রিটিশ নাগরিকদের সংখ্যা প্রায় ৫০০, যারা ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন শহরে বসবাস করছেন। দূতাবাসের দায়িত্ব হল তাদের নিরাপদে রাখা, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা।
স্টার্মার উল্লেখ করেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক ঘটনার সময় নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছেন, সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্টার্মার জানান, যুক্তরাজ্য ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেবে।
ব্রিটেনের সরকার এখনো এই ঘটনার ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রকাশ করেনি, তবে স্টার্মার ভবিষ্যতে তথ্য স্পষ্ট হওয়ার পর যথাযথ মন্তব্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত। স্টার্মার উল্লেখ করেছেন, কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। স্টার্মার জানান, ব্রিটিশ সরকার ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ না করে, কেবল তাদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মনোযোগ দেবে।
পরবর্তী সময়ে স্টার্মার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা করছেন, যাতে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এই সংলাপের ফলাফল কিভাবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে প্রকাশ পাবে, তা সময়ই বলবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্য ভেনেজুয়েলা আক্রমণে কোনোভাবে যুক্ত নয়, তথ্য সংগ্রহের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।



