মজিবর রহমান সরোয়ার, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় তার বার্ষিক আয় ও সম্পদের গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও নির্বাচনী কৌশল বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১৮ সালে সরোয়ারের মোট বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল। এর মধ্যে ব্যবসা খাত থেকে প্রাপ্ত আয় সর্বোচ্চ, প্রায় ২৪ লাখ টাকা, যা তার মূল আয় উৎস হিসেবে কাজ করেছিল। বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৩ হাজার টাকার আয় অর্জিত হয়, কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার এবং ব্যাংক সুদ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার আয় যোগ হয়। এই সংখ্যা গুলো তার আয় কাঠামোর বৈচিত্র্যকে প্রকাশ করে।
২০২৬ সালের আর্থিক রিটার্নে মোট আয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৯ টাকা দেখানো হয়েছে, যা প্রায় আট লাখ টাকার হ্রাস নির্দেশ করে। ব্যবসা থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা পূর্বের দ্বিগুণের চেয়ে কম। তবে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় কিছুটা বাড়ে এবং ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছায়। কৃষি থেকে আয় দ্বিগুণ হয়ে ২ লাখ টাকায় বৃদ্ধি পায়, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আয় যুক্ত হয়েছে, এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১২ লাখ টাকার আয় রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো আয়ের উৎসের পুনর্বণ্টনকে নির্দেশ করে।
কৃষিজমির পরিমাণেও পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৮ সালে সরোয়ারের কৃষিজমি ৪.৬৩ একর ছিল, যা ২০২৬ সালে ৩.২৫ একরে হ্রাস পেয়ে ১.৩৮ একর কমে গেছে। একই সঙ্গে জমির ঘোষিত মূল্য ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা থেকে কমে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় নেমে এসেছে, যা জমির মূল্যায়নে হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট ঘোষিত মূল্য ২০১৮ সালে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০২ টাকা ছিল, এবং ২০২৬ সালের হলফনামায় একই রকমই রয়ে গেছে। তবে অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফ্ল্যাটের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও, তিনটি ফ্ল্যাটের সম্মিলিত মূল্য ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা হিসেবে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যানবাহনের তালিকায়ও পরিবর্তন দেখা যায়; পূর্বে দুটি গাড়ি তালিকাভুক্ত থাকলেও, ২০২৬ সালের রেকর্ডে শুধুমাত্র একটি জিপের মূল্য ৫০ লাখ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবের মূল্য একই রকমই রাখা হয়েছে, যা তার স্থায়ী সম্পদের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন না থাকার ইঙ্গিত দেয়।
হলফনামায় উল্লেখ আছে যে সরোয়ারের কাছে ৫০ তোলা সোনা রয়েছে, যা তার অস্থাবর সম্পদের অংশ হিসেবে গন্য হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি বর্তমানে বিচারাধীন। এই আইনি বিষয়গুলো তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আর্থিক ও সম্পদগত পরিবর্তনগুলো নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে আয়ের হ্রাস ও সম্পদের পুনর্গঠন তার নির্বাচনী প্রচার ও ভোটার ভিত্তিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃষি জমির হ্রাস এবং অস্থাবর সম্পদের বৃদ্ধি তার অর্থনৈতিক নীতি ও ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, সম্পদের গঠন পরিবর্তন তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে, তার আর্থিক তথ্যের আপডেট নির্বাচনের ফলাফলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্বাচনী কমিশন ও মিডিয়ার নজরে থাকবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান, এবং মজিবর রহমান সরোয়ারের আর্থিক তথ্যের পরবর্তী আপডেট ও বিশ্লেষণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিবিধি ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



