বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের ঢাকা-১৭ আসন জন্য জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্র আজ (৩ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক পর্যালোচনা শেষে বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নিশ্চিতকরণ বিএনপি নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম আজের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন পত্রের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রার্থীর যোগ্যতার শর্তাবলী পর্যালোচনা করেন, এরপর ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে স্পষ্টতা প্রদান করা হয়। সেগুনবাগিচা অফিসে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, তরিকের দলীয় সহকর্মীরা দ্রুতই ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করছিল। ফলস্বরূপ, আজকের ঘোষণাটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আব্দুস সালাম তরিকের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর দলীয় দৃঢ়সংকল্পের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংকটের সময় জিয়া পরিবারের ভূমিকা উল্লেখ করে, স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্র রক্ষার প্রচেষ্টাকে স্মরণ করেন। তরিকের নেতৃত্বে দলটি এখন দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সালাম আরও উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছর ধরে ভোটারদের মৌলিক অধিকার সীমাবদ্ধ ছিল এবং সেই সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের প্রভাব দৃঢ় ছিল। তিনি বলেন, যদিও স্বৈরাচারী শাসন শেষ হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ গণতন্ত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তরিকের দল আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা স্পষ্ট করে দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে গণতান্ত্রিক পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে চায়।
উল্লেখযোগ্য যে, তরিকের দলীয় নেতৃত্বের অধীনে ভবিষ্যৎ সরকারকে দেশের সমস্যাগুলো সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এবং তা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। তরিকের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনের ফলাফলকে জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে গ্রহণ করবে।
একই দিনে, তরিকের আরেকটি মনোনয়ন পত্র—বগুড়া-৬ (সদর) আসনের জন্য—ও রিটার্নিং অফিসার দ্বারা বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে। বগুড়া ডেপুটি কমিশনারের অফিসে সকালবেলা এই পত্রের পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই দুইটি আসনে তরিকের বৈধ মনোনয়ন তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয় এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপি’র এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তরিকের বৈধ মনোনয়ন পার্টির সংগঠনের শক্তি এবং ভোটার ভিত্তি পুনরায় জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, যারা দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিরতিপ্রাপ্ত, তারা এখন ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।
দলীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, তরিকের মনোনয়ন বৈধ হওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তারা আশা করেন, এই স্বচ্ছতা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে। তরিকের নেতৃত্বে দলটি এখন নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবে, যেখানে নীতি, উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের পুনর্গঠনকে মূল মন্ত্র হিসেবে তুলে ধরবে।
অবশেষে, তরিকের দলীয় নেতৃত্বের অধীনে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। স্বৈরাচারী শাসনের পর থেকে দীর্ঘ সময়ে প্রথমবারের মতো, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আবারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তরিকের বৈধ মনোনয়ন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ভবিষ্যতে তরিকের দল কীভাবে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সক্ষম হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে। তাই, তরিকের বৈধ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আসন্ন নির্বাচনী লড়াই দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।



