বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নারী টেনিস খেলোয়াড় ইগা স্বাতেক, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে, সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাতে বললেন যে নারীর টেনিসের স্বতন্ত্র মর্যাদা বজায় আছে এবং পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো “ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস” দরকার নেই। এই মন্তব্যের পটভূমি ছিল দুবাইতে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনী ম্যাচ, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার নিক কিরিগোস আর্যনা সাবালেনকারা মুখোমুখি হয়ে সরাসরি দুই সেটে জয়লাভ করেন।
কিরিগোসের জয়টি একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত কোর্টে ঘটেছিল, যা উভয় খেলোয়াড়ের জন্য সমান শর্ত তৈরি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। ম্যাচটি দ্রুত দুই সেটে শেষ হয়ে গেল, ফলে সাবালেনকারা কোনো সেটে ফিরে আসতে পারেননি। এই ফলাফলটি টেনিস জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়, বিশেষ করে যখন স্বাতেকের মত শীর্ষ নারী খেলোয়াড়ের মতামত শোনা যায়।
স্বাতেক জানান, তিনি নিজে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি দেখেননি, কারণ তিনি এ ধরনের ইভেন্টে সাধারণত অংশ নেন না। তার মতে, যদিও ম্যাচটি প্রচুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিনোদনের দিক থেকে সফল হয়েছে, তবু তা কোনো সামাজিক পরিবর্তন বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তিনি জোর দিয়ে বললেন যে এই ইভেন্টের নামটি ১৯৭৩ সালে বিলি জিন কিং ও ববি রিগসের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক “ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস” থেকে নেওয়া হয়েছে, তবে তা ছাড়া অন্য কোনো সাদৃশ্য নেই।
স্বাতেকের মতে, আজকের নারীর টেনিস ইতিমধ্যে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং তার নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিভা ও আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর টেনিসের জন্য পুরুষ টেনিসের সঙ্গে তুলনা করা বা কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করা প্রয়োজনীয় নয়। “আমাদের কাছে এতগুলো চমৎকার খেলোয়াড় এবং আকর্ষণীয় কাহিনী আছে, যা নিজেই পর্যাপ্ত,” তিনি বলেন।
এদিকে, স্বাতেক যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড কাপকে নারীর ও পুরুষের টেনিসকে একসাথে উদযাপনের একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই দলীয় প্রতিযোগিতা অস্ট্রেলিয়ায় শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি টাইতে এক পুরুষ একক, এক নারী একক এবং একটি মিক্সড ডাবলস ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। স্বাতেকের মতে, এই ফরম্যাটটি উভয় টুরের ভক্তদের একত্রে উত্তেজনা উপভোগের সুযোগ দেয়।
ইউনাইটেড কাপের মাধ্যমে টেনিসের দুই শাখা একসঙ্গে মিলে নতুন রঙ যোগ করেছে। স্বাতেক উল্লেখ করেন, সাধারণত একক খেলোয়াড়রা মিক্সড ডাবলসে অংশ নেয় না, তবে এই ইভেন্টে তারা একসঙ্গে খেলতে পারে, যা খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। “এ ধরনের ম্যাচই আমাদের খেলাকে আরও রোমাঞ্চকর এবং উন্নত করে,” তিনি যোগ করেন।
ইউনাইটেড কাপের প্রথম রাউন্ডে গ্রেট ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্বে ইমা রাডুকানু ও বিলি হ্যারিস অংশ নেন। তারা তাদের প্রথম ম্যাচে জে নামের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হন, যা টুর্নামেন্টের সূচিতে উল্লেখযোগ্য একটি মুহূর্ত। এই ম্যাচটি টেনিস ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং উভয় দলের পারফরম্যান্সকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাতেকের মন্তব্য এবং ইউরোপীয় টেনিসের বর্তমান প্রবণতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে নারীর টেনিসের স্বতন্ত্রতা ও স্বীকৃতি এখনো বাড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে আরও এমন ইভেন্ট হবে, যেখানে পুরুষ ও নারীর খেলোয়াড় একসঙ্গে মঞ্চে আসবে এবং টেনিসের সামগ্রিক আকর্ষণ বাড়বে। ইউনাইটেড কাপের পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে আরও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা টেনিসের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।



