ময়মনসিংহের গফরগাঁ, গফরগাঁ থানা থেকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুইজন বিএনপি নেতার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদী মিছিলের পর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রেপ্তারটি ঘটেছে শুক্রবার রাত প্রায় একটায়, গফরগাঁ পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশু হাসপাতাল রোডের একটি বাড়ি থেকে। গ্রেপ্তারের মধ্যে ৪৩ বছর বয়সী আজিম উদ্দিন আজিম, যিনি উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক, এবং ৩৬ বছর বয়সী চমন মন্ডল অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে গফরগাঁ থানার যৌথ অভিযানে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিনটি রাউন্ড গুলি, একটি খালি গুলি কার্তুজ, শটগানের একটি তাজা কার্তুজ এবং ইয়াবা সহ দুই ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে একটি পিস্তল এবং শটগানের কার্তুজ উভয়ই ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যায়।
অধিকাংশ অস্ত্র ও মাদক জিনিসপত্রের পাশাপাশি, গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যক্তিগত সামগ্রীও তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি শেষে গৃহের অন্যান্য কক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে গৃহে পাওয়া অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়।
গফরগাঁ থানার এসআই সাইদুল করিম মামলাটি রেজিস্টার করে গৃহে পাওয়া অস্ত্র ও মাদককে ভিত্তি করে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম, বয়স, ঠিকানা এবং উদ্ধারকৃত সামগ্রীর তালিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি গফরগাঁ থানার ওসি আ স ম আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে গৃহে পাওয়া অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত আইনের অধীনে জেলখানা পাঠানোর আদেশ দেয়। ফলে দুজনই আদালতের আদেশমতো জেলখানায় পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকে ঘিরে গফরগাঁ পৌর শহরে প্রতিবাদী মিছিলের পর, আজিমের সমর্থকরা গফরগাঁ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন গঠন করে। মানববন্ধনের সময় অংশগ্রহণকারীরা গ্রেপ্তারকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে সমালোচনা করে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানায়।
প্রতিবাদী মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা গফরগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে শারীরিকভাবে মানববন্ধন গঠন করে, যেখানে তারা চিৎকার করে ‘অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ করুন’ এবং ‘সত্যিকারের ন্যায়বিচার চাই’। মিছিলের শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে গৃহে ফিরে যায়।
গফরগাঁ থানার ওসি আ স ম আতিকুর রহমান গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রেজিস্টার করা হয়েছে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারকৃতদের নাম ও অপরাধের বিবরণ মামলায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজিম উদ্দিন আজিমের রাজনৈতিক পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তিনি উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। চমন মন্ডলও স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত। উভয়ই পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের রেকর্ড রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের সমর্থকরা গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করে, তবে পুলিশ পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার ও সামগ্রী তল্লাশি বৈধ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মতে, গৃহে পাওয়া অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত প্রমাণ যথেষ্ট এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন অতিরিক্ত কোনো অপরাধের সূত্র পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধান করা হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গফরগাঁ থানা, ময়মনসিংহ জেলা আদালত এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জেলখানায় স্থানান্তর এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হলে আপডেট প্রদান করা হবে।



