23 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাসিকন্দার রাজার পার্ল রয়্যালসের জয়, ভাইয়ের মৃত্যু সত্ত্বেও

সিকন্দার রাজার পার্ল রয়্যালসের জয়, ভাইয়ের মৃত্যু সত্ত্বেও

সিকন্দার রজা, তার ১৩ বছর বয়সী ভাই মুহাম্মদ মাহদি হ্যারারে সোমবার মারা যাওয়ার দু-দিন পর, পার্ল রয়্যালসের মুখোমুখি মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ক্যাপ টাউন দলের সঙ্গে বোল্যান্ড পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজার ত্রিপল উইকেট এবং ৩/২৭ পারফরম্যান্সের ফলে দলটি ১৮২ রান লক্ষ্যকে এক রানের পার্থক্যে রক্ষা করে জয়লাভ করে।

রজা সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি২০ (ILT20) এর শেষ ম্যাচ শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় SA20 সিরিজে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শোনার পরেও, তিনি দলের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মাঠে নামেন।

অনেকেই ভাবতে পারেন, রজা এই কঠিন সময়ে খেলায় অংশ না নেওয়া উচিত ছিল, তবে তিনি নিজের ইচ্ছা ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে ম্যাচে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতি দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয় এবং তার পারফরম্যান্সে তা স্পষ্ট হয়।

বোলিংয়ে রজা প্রথমে রায়ান রিকেলটনকে লং-অন-এ ক্যাচ করে ৭৭ রান চালিয়ে যাওয়া স্ট্যান্ড শেষ করেন। এই উইকেটের ফলে ক্যাপ টাউন দলের গতি ধীর হয়ে যায় এবং লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা কমে যায়।

পরবর্তী ওভারগুলোতে রজা নিকোলাস পুরানকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ করেন। তিনি সাইডআর্ম ডেলিভারি দিয়ে বলটি লেগে টম মুরসের অফ স্টাম্পের শীর্ষে আঘাত করে উইকেট নেয়। এই ধারাবাহিক উইকেটগুলো ক্যাপ টাউনকে লক্ষ্য থেকে দূরে রাখে।

রজার তৃতীয় উইকেটের পর তার বোলিং পরিসংখ্যান ৩ উইকেটের জন্য ২৭ রান সীমাবদ্ধ থাকে, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। তার সুনির্দিষ্ট লাইন এবং পরিবর্তনশীল গতি পার্ল রয়্যালসকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ দমন করতে সাহায্য করে।

পার্থক্য মাত্র এক রান হলেও, রজার ত্রিপল উইকেটের গুরুত্ব অপরিসীম। তার বোলিং না থাকলে ক্যাপ টাউন দলটি সহজে লক্ষ্য পূরণ করতে পারত। রজার পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে নিয়ে যায় এবং তার আত্মিক শক্তি প্রকাশ করে।

উইকেট নেওয়ার পর রজা উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে, হাত বেঁধে আকাশে আঘাত করেন। তার এই উদ্দীপনা এবং উচ্ছ্বাস সাধারণের চেয়ে বেশি, যা তার মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রীড়া প্রেমের প্রকাশ।

ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে রজা চোখে অশ্রু নিয়ে তার ভাইয়ের স্মৃতি ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার কখনোই এই ক্ষতি ভুলতে পারব না।” তার কণ্ঠস্বর ভেঙে যায়, তবে তিনি দলের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রজা জানান, “আমি দলকে সম্মান জানাতে চাই, আপনারা যে সমর্থন ও সান্ত্বনা দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ। আমি শারীরিক, মানসিক বা আবেগিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে আমি এখানে থাকতাম না। এখন আমি এখানে আছি, তাই আপনাদের সবকিছু দিতে প্রস্তুত।” এই কথাগুলো তার দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরে।

SA20 এর চতুর্থ সংস্করণে এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের প্রথম খেলা ছিল, এবং রজার পারফরম্যান্স নতুন মৌসুমের সূচনা হিসেবে গুরুত্ব পায়। তার ত্রিপল উইকেট এবং জয়ের অবদান দলকে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলে।

পরবর্তী ম্যাচে পার্ল রয়্যালস আবার মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ক্যাপ টাউনকে মুখোমুখি হবে, এবং রজা আবারও তার বোলিং দক্ষতা ও মানসিক শক্তি দিয়ে দলকে সমর্থন করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তার পারফরম্যান্স কেবল জয়ই নয়, ব্যক্তিগত দুঃখের মাঝেও ক্রীড়া জগতের শক্তি ও সহনশীলতা প্রদর্শন করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Cricbuzz
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments