বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোলা রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে নির্বাচনী নথি যাচাই‑বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সামনে একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে “নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসক” বলে অভিযুক্ত করে, শীঘ্রই শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান।
মেজর হাফিজের মতে, ভারতীয় সীমানা পারাপার করে বাংলাদেশের নাগরিককে হত্যা করা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ ধরনের অপরাধী যদি ভারত সরকারই গ্রেপ্তার করে, তবে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
হাফিজ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “শহীদ ওসমান হাদির নাম সবাই জানে। তাকে সীমান্তের ওপার থেকে এসে, ভারতের আর্থিক সহায়তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” এই বক্তব্যে তিনি ভারতের আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন।
মেজর হাফিজের উদ্বেগের মূল বিষয় হল, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে মাফিয়া দল ও আওয়ামী লীগকে সহায়তা করে আরও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত যে, নির্বাচনের আগে আরও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হবে এবং এর জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে,” যা দেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মেজর হাফিজের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি যদি সত্যিই ভারতকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি বাস্তবায়িত করতে পারেন, তবে তা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর বড়ো প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন বিরোধী দলগুলো এই ধরনের অভিযোগকে সরকারী নীতির দুর্বলতা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী এই মুহূর্তে সরকারের উপর চাপ বাড়াতে পারে, যাতে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা যায়। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত এই দাবিগুলো কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে রয়ে যাবে।
মেজর হাফিজের বক্তব্যের ভিত্তিতে, যদি ভারত সরকার সত্যিই এই ধরনের অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়, তবে তা দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো সরকারি নীতি বা পদক্ষেপের প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নির্বাচনী কমিশন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই ধরনের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে এই বিষয়টি নজরে থাকবে, যাতে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন বা রাজনৈতিক হিংসা রোধ করা যায়।
মেজর হাফিজের মন্তব্যের মাধ্যমে উন্মোচিত প্রশ্নগুলো—ভারতের ভূমিকা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, এবং আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রভাব—রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণমূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



