যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি আকাশীয় আক্রমণ গত শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো হয়। ভেনেজুয়েলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জানিয়েছেন যে, হামলায় নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে।
আক্রমণটি শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হওয়ায় বেসামরিক এলাকায়ও ক্ষতি হয়েছে বলে মন্ত্রীর মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি, সরকার ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
পাদ্রিনো উল্লেখ করেন, বিদেশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ভেনেজুয়েলায় কোনো ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। তিনি যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া দেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করা কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর আটক সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যদিও উভয় পক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার প্রভাবকে ক্যারিবিয়ান ও লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে ক্যারিবিয়ান জলে মাদকবাহী নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ এবং পূর্বে গৃহযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সঙ্গে এই ঘটনা তুলনীয়।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশারদ বলেন, “ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইউএন নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা উভয় দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।”
ভেনেজুয়েলার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়িয়ে তুলেছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা ক্ষমা চাওয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনার পর, লাতিন আমেরিকান দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির প্রতি সমালোচনা বাড়ছে। কিছু দেশ সরকারী স্তরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে আলোচনার সূচনা হতে পারে। বিশেষত, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই আক্রমণের ফলে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতির তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে যে, লাতিন আমেরিকায় শক্তি প্রদর্শনের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যবহার পুনরায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা ভেনেজুয়েলা সহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নিতে পারেন।



