ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, শ্রীপুরে তার পৈতৃক বাড়িতে অনুষ্ঠিত কুলখানির অনুষ্ঠানে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দলকে আসন উপহার দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটি শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ফুলগাজীর শ্রীপুরে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও পারিবারিক সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মজনু, যিনি খালেদা জিয়ার (বিএনপি চেয়ারপার্সন) প্রাক্তন স্বামী, তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “জীবন দিয়ে হলেও খালেদা জিয়ার আসনটি দলকে উপহার দেবো”। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে, খালেদা জিয়ার অবশিষ্ট কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
কুলখানির আয়োজন মজনুর পৈতৃক বাড়িতে করা হয়, যেখানে উপস্থিতদের মধ্যে খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার, জহিরুল কাইয়ুম নান্টু, জাহিদ হোসেন মজুমদার এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উপস্থিতির মাধ্যমে পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের দৃঢ়তা প্রকাশ পায়।
বিএনপি নির্বাচনী কৌশল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মজনুর এই প্রতিশ্রুতি দলকে ফেনী-১ আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও তার সমর্থকদের সমন্বয় মজনুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ ও সরকারী পক্ষের মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে। মজনুর উক্তি দলীয় ঐক্য ও সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ফেনী-১ আসনের ভোটারগণ, যাদের মধ্যে কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের সংখ্যা বেশি, মজনুর প্রতিশ্রুতি ও খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মানকে ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, ফুলগাজী ও পরশুরাম অঞ্চলের গ্রামীণ ভোটাররা এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
বিএনপি নেতৃত্বের দিক থেকে, মজনুর এই ঘোষণাকে দলীয় সংহতি ও নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে দলটি তার উত্তরাধিকার সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এবং মজনুর এই প্রতিশ্রুতি সেই ধারাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, মজনুর এই বক্তব্য পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি, প্রতিপক্ষের কৌশলগত পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসাবেও কাজ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে, দলকে আসন উপহার দেওয়া একটি রাজনৈতিক দায়িত্ব।
স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে মজনুর উক্তি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক মজনুর এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক রণনীতি হিসেবে দেখছেন, অন্যরা এটিকে খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
এই কুলখানির অনুষ্ঠানে উপস্থিত পারিবারিক সদস্যদের সমর্থন মজনুর জন্য রাজনৈতিক স্বীকৃতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শামীম হোসেন মজুমদার, জহিরুল কাইয়ুম নান্টু ও জাহিদ হোসেন মজুমদারসহ উপস্থিতরা মজনুর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, যা দলের অভ্যন্তরে ঐক্যের প্রতিফলন।
সামগ্রিকভাবে, রফিকুল আলম মজনুর ঘোষণাটি ফেনী-১ আসনে বিএনপি জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে মজনুর এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



