যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ভেনেজুয়েলা উপর বৃহৎ আকারের সামরিক আক্রমণ চালিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে দেশে থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি এই কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে সম্পন্ন হওয়া একটি “বৃহৎ আকারের” অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি একই দিনে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রেসিডেন্সে ১১ টা (১৬০০ GMT) সময়ে একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের ধারাবাহিকতা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
একটি সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অভিযানকে “অত্যন্ত চমৎকার” বলে প্রশংসা করেন এবং পরিকল্পনা, প্রশিক্ষিত সৈন্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা তুলে ধরে বলেন যে এটি একটি সুচিন্তিত ও সমন্বিত অপারেশন ছিল।
মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পটভূমিতে রয়েছে ডিকেম্বার মাসে ট্রাম্পের মন্তব্য যে মাদুরোর শাসন শেষের দিকে এবং তিনি শীঘ্রই পদত্যাগ করা উচিত। একই সময়ে তিনি ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মাদক সরবরাহকারী এবং আমেরিকান তেল স্বার্থের ওপর আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মাদুরো দুই দিন আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে এখন তার গ্রেপ্তার সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ মাদুরোর বৈধতা স্বীকার করে না, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশাল উপস্থিতি গড়ে উঠেছে; এতে এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত। এই নৌবাহিনীর উপস্থিতি তেল রপ্তানির উপর আরোপিত অবরোধের একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।
অবরোধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সমুদ্রে দুইটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে এবং সাম্প্রতিক এয়ার অপারেশনে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলার তেল-নির্ভর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। মাদুরোর গ্রেপ্তার যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলে প্রভাব বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারী সূত্রগুলো এখনও মাদুরোর অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি এবং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের পরিকল্পিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি গ্রেপ্তারকৃত মাদুরো ও তার স্ত্রীর বর্তমান অবস্থা, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে এবং তেল অবরোধের কার্যক্রম চালু থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট সমাধানে চাপ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তার এবং বৃহৎ আকারের সামরিক আক্রমণ উল্লেখ করা হয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে।



