20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় আক্রমণ চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রীর অপসারণ নিশ্চিত

মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় আক্রমণ চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রীর অপসারণ নিশ্চিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত বার্তায় জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করেছে এবং দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১১টায় মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ের আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

ভেনেজুয়েলা সরকার পূর্বে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং উল্লেখ করেছে যে ক্যারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুইরার কয়েকটি রাজ্যেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। সরকার দাবি করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা, তবে এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছে।

আক্রমণের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো সারাদেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এপির (Associated Press) তথ্য অনুযায়ী, ক্যারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) তাদের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহার থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। FAA এই নিষেধাজ্ঞাকে চলমান সামরিক তৎপরতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

FAA-এর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ক্যারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সরকারকে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের উৎস হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য মাদক চোরাচালান বন্ধ করা। অন্যদিকে মাদুরো ট্রাম্পের উদ্দেশ্যকে ভেনেজুয়েলাকে উপনিবেশে পরিণত করা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকে দেশের বিশাল জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদে কেন্দ্রীভূত বলে দাবি করেছেন।

ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ ও অপসারণের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষের উচ্চস্তরের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, এই সংঘাতের ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় আসতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সংবাদ সম্মেলন ও ভেনেজুয়েলার সরকারী প্রতিক্রিয়া উভয়ই পরবর্তী সপ্তাহে কীভাবে বিকাশ পাবে তা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অংশগ্রহণ এবং FAA-এর আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা উভয়ই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সরকারী সংস্থাগুলি দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর, ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments