শাশি থারু, ভারতীয় সংসদ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশারদ, আইপিএল ২০২৬‑এর কোলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি টুইটে উল্লেখ করেন যে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা উচিত এবং প্রশ্ন তোলেন, যদি একই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়ের ধর্ম ভিন্ন হতো তবে কী হতো।
বিবিসি (বর্ডার ক্রিকেট কাউন্সিল) কর্তৃক মুস্তাফিজুরের কেকেআর থেকে নাম তুলে নেওয়া হয়, যদিও তিনি আইপিএল মিনি-নিলাম থেকে ৯.২০ কোটি রুপির চুক্তিতে দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান এবং দলের ব্যবস্থাপনা উভয়ের ওপর ভারতের শাসনকর্তা দল (বিজেপি) এবং কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপ বাড়ার কথা জানানো হয়েছে।
মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া নিয়ে থারু তৎক্ষণাৎ টুইটারে তার মত প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যদি খেলোয়াড়ের ধর্ম ভিন্ন হতো, তবে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তিনি উল্লেখ করেন, “একজন জাতি, একজন ব্যক্তি, তার ধর্ম—এগুলোকে দণ্ডিত করা ন্যায়সঙ্গত নয়” এবং এই ধরনের অযৌক্তিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ক্রীড়ার স্বচ্ছন্দে ক্ষতি করে।
ইন্ডিয়ান নিউজ এজেন্সি (এএনআই) সঙ্গে কথা বলার সময় থারু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ক্রিকেট ও রাজনীতির মিশ্রণ অনুচিত এবং ক্রিকেটকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রকে এমন কোনো সংঘাতের বোঝা থেকে মুক্ত রাখা দরকার, যাতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ না থাকে।
থারু আরও উল্লেখ করেন, মুস্তাফিজুর একজন পেশাদার ক্রিকেটার এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিতর্কে জড়িত নন। তিনি কোনো হেট স্পিচ বা সহিংসতা সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হননি; তাই তার ওপর রাজনৈতিক দায় আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয়। থারু বলেন, “খেলোয়াড়ের ক্রীড়া দক্ষতা ও পারফরম্যান্সই মূল বিষয়, তার ধর্মীয় পরিচয় নয়”।
ভারত-বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে থারু সতর্ক করেন, যে যদি দেশটি তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পথে যায়, তবে তা কোনো উপকারে আসবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত তিন দিক থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে রেখেছে; তাই ক্রীড়া মঞ্চে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা জরুরি।
থারু এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানান, ক্রীড়া সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে আলাদা করা উচিত এবং আইপিএলের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়ের নির্বাচন কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমরা ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত করি, তবে ভবিষ্যতে ক্রীড়া উত্সাহীদের আগ্রহ কমে যাবে”।
কেকেআরের মালিক শাহরুখ খান, যিনি দলের ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়ের চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তার ওপরও রাজনৈতিক নেতাদের চাপের উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে দলের সিদ্ধান্তে তার সম্মতি নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
বিবিসি, যা আইপিএলের প্রধান শাসন সংস্থা, মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছে এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইপিএল ২০২৬‑এর প্রথম ম্যাচগুলোতে কেকেআরের দলে নতুন পরিবর্তন দেখা যাবে।
আইপিএল ২০২৬-এর শিডিউল অনুযায়ী, কেকেআর দলটি আগামী সপ্তাহে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রি-সিজন ট্রেনিং শুরু করবে এবং প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি নেবে। থারুর মন্তব্যের পর ক্রীড়া বিশ্লেষকরা এই পরিবর্তনকে দলের পারফরম্যান্সের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সারসংক্ষেপে, শাশি থারু মুস্তাফিজুরের আইপিএল বাদ দেওয়াকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে ক্রীড়া ও রাজনীতির বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মন্তব্য ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংযোগস্থলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।



