রাজ কামাল ফিল্মস ইন্টারন্যাশনাল থালাইভার ১৭৩ ছবির পরিচালক হিসেবে সিবি চক্রবর্তি নাম ঘোষণা করেছে। ছবিটি সুপারস্টার রাজিনিকান্তের মুখ্য ভূমিকায় হবে এবং প্রযোজনা কাজের দায়িত্বে কামাল হাসান ও আর. মহেন্দ্রন রয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চলচ্চিত্রের মূল দল দ্রুতই চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সিবি চক্রবর্তি, যিনি পূর্বে কয়েকটি সফল তামিল চলচ্চিত্রে সহ-দিকনির্দেশক ও সহ-লেখক হিসেবে কাজ করেছেন, এবার একা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার পূর্বের কাজের মধ্যে ‘মার্কস’ ও ‘ব্রেকিং ডেড’ শিরোনামের চলচ্চিত্রগুলো উল্লেখযোগ্য, যা তাকে শিল্পের মধ্যে বিশেষ স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। থালাইভার ১৭৩‑এর জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈলীকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে।
প্রযোজনা দায়িত্বে কামাল হাসান ও আর. মহেন্দ্রন একত্রে কাজ করবেন, যা তামিল সিনেমার ইতিহাসে দুজনের প্রথম যৌথ উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হবে। দুজনই শিল্পের অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা ছবির গুণগত মান ও বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সঙ্গীতের দায়িত্বে অ্যানিরুদ্ধকে নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি পূর্বে রাজিনিকান্তের সঙ্গে ‘কাপল’ এবং ‘মাস্টার’ ছবিতে সফল সুর রচনা করেছেন। অ্যানিরুদ্ধের আধুনিক সুর ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে তার সংযোগ ছবির সাউন্ডট্র্যাককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এই সঙ্গীত সহযোগিতা চলচ্চিত্রের প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচালক ও প্রযোজকরা ছবির সৃজনশীল দিক নিয়ে আর কোনো গুজবের সুযোগ রাখবেন না। পূর্বে যে গুজবগুলো ভক্তদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, সেগুলো এখন শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে ছবির মূল দলকে কেন্দ্র করে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
শুটিং শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট শুটিং তারিখ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রযোজনা সংস্থা অতিরিক্ত তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ছবির গোপনীয়তা বজায় থাকে। শুটিংয়ের সময়সূচি ও লোকেশন সম্পর্কে পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
কাস্ট ও টেকনিক্যাল টিমের পূর্ণ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রযোজনা দল ভবিষ্যতে এই তথ্যগুলো ধীরে ধীরে জানাবে। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, সিনেমাটোগ্রাফি ও এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে উচ্চমানের টিম গঠন করা হবে বলে সূত্র পাওয়া গেছে। এই দিকগুলো ছবির সামগ্রিক গুণগত মানকে সমর্থন করবে।
থালাইভার ১৭৩ ছবির মুক্তি পঙ্গল উৎসবের সময়, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত হয়েছে। পঙ্গল হল তামিল নববর্ষের প্রধান উৎসব, যা বড় স্ক্রিনে নতুন ছবির জন্য আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে মুক্তি পেলে ছবির বক্স অফিসে উচ্চ প্রবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজিনিকান্তের উপস্থিতি, কামাল হাসানের প্রযোজনা সমর্থন এবং সিবি চক্রবর্তির পরিচালনা একত্রে তামিল সিনেমার অন্যতম বড় আকর্ষণ তৈরি করেছে। এই ত্রয়ীর সমন্বয় চলচ্চিত্রকে শিল্পের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে স্থাপন করবে। ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে এই সংমিশ্রণকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
সিবি চক্রবর্তি, যিনি পূর্বে ‘সোডা’ ও ‘ড্রিমস’ ছবিতে সহ-দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন, তার প্রথম একক পরিচালনা হিসেবে থালাইভার ১৭৩কে বেছে নিয়েছেন। তার চলচ্চিত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্ণনাশৈলীকে নিয়ে সমালোচকরা ইতিমধ্যে ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। এই প্রকল্পে তার সৃজনশীল স্বাধীনতা ও দায়িত্বের পরিধি বড় হওয়ায় ছবির গুণগত মানে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা থালাইভার ১৭৩কে তামিল সিনেমার সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত ছবিগুলোর মধ্যে তালিকাভুক্ত করেছেন। পঙ্গল উৎসবের সময় মুক্তি, সুপরিচিত সঙ্গীতশিল্পী ও অভিজ্ঞ পরিচালকের সমন্বয় ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে। ভক্তদের উন্মাদনা ও মিডিয়ার আগ্রহের সঙ্গে ছবির প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের চাহিদা বাড়বে বলে পূর্বাভাস।
সর্বশেষে, রাজিনিকান্তের মুখ্য ভূমিকায়, কামাল হাসানের প্রযোজনা সমর্থনে এবং সিবি চক্রবর্তির পরিচালনায় থালাইভার ১৭৩ তামিল চলচ্চিত্রের নতুন যুগের সূচনা করবে। ছবির সুনির্দিষ্ট শুটিং সূচি, কাস্ট ও টেকনিক্যাল টিমের তথ্য শীঘ্রই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ভক্তদের জন্য এই অপেক্ষা শেষ হওয়ার মুহূর্তটি শীঘ্রই আসবে, এবং পঙ্গল উৎসবের আনন্দে নতুন সিনেমা উপভোগের সুযোগ পাবেন।



