ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাত আলী শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় উল্লেখ করেন, যদি আগামী চল্লিশ দিন শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা যায়, তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি এই বক্তব্যটি ঢাকার অপরাধ পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে উল্লেখ করে দেন।
কমিশনারের মতে, ২০২৫ সাল দেশের জন্য বিশেষভাবে অশান্তি পূর্ণ ছিল। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের তুলনায় ২০২৫ সালে জনসমাবেশ ও প্রতিবাদে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন। “বহু গোষ্ঠীর স্বার্থপর দাবির জন্য রাস্তায় অবরোধ, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ব্লক সৃষ্টি করা সাধারণ মানুষের জীবনে বাধা সৃষ্টি করে,” তিনি বলেন, বিশেষ করে অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের উপর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।
সাজ্জাত আলী জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করা কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না, তবে রাস্তায় বাধা দিয়ে সাধারণ জনগণকে কষ্ট দেওয়া সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, “দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় অবরোধের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়া আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর,” এবং এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কমিশনার অতিরিক্ত জানান, গত চৌদ্দ মাসে তিনি দায়িত্ব পালনকালে যে ভুলগুলো করেছেন, সেগুলো নিয়ে যদি কোনো লেখালেখি হয়, তবে তিনি তা স্বাগত জানাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে।
প্রার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “প্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তবে আমাদের সম্পদ ও সক্ষমতার সীমা বিবেচনা করে হুমকি মূল্যায়ন করা হয়।” হুমকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য গার্ড ম্যান নিয়োগ করা হয়েছে এবং বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনারদের সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
সাজ্জাত আলী উল্লেখ করেন, “যদি আমরা আগামী চল্লিশ দিন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারি, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে।” তার এই মন্তব্যের পেছনে নিরাপত্তা সংস্থার প্রস্তুতি, জনসাধারণের সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ আচরণকে মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বক্তব্যের পর, ক্র্যাবের সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। কমিশনারের মন্তব্যের ভিত্তিতে, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত তদারকি ও সমন্বয় পরিকল্পনা তৈরি করার কথা জানিয়ে দেন।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের এই মন্তব্য নির্বাচনের নিরাপত্তা দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।



