টরন্টোর রিয়েল এস্টেট বাজারে মাইক্রো-কন্ডোর চাহিদা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহবাজারের সামগ্রিক মন্দার সঙ্গে যুক্ত। ৩০০ বর্গফুটের একক ঘরে রান্নাঘর, ডাইনিং টেবিল, কাজের স্থান এবং শোয়ানোর জায়গা একসাথে থাকা এক তরুণ কর্মীর অভিজ্ঞতা এই প্রবণতার উদাহরণ। ২৮ বছর বয়সী এক বাসিন্দা প্রথমে এই ছোট জায়গাকে সুবিধাজনক বলে মনে করলেও, দ্রুতই স্থানীয় সীমাবদ্ধতা ও একাকিত্বের অনুভূতি তাকে অসন্তুষ্ট করে।
মাইক্রো-কন্ডো, যা একসময় কানাডার রিয়েল এস্টেটের বিরল ধরণ ছিল, টরন্টো ও ভ্যানকুভারের উচ্চ-উচ্চতার নতুন প্রকল্পগুলোর ফলে গত দশকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে, সাম্প্রতিক বাজারের চাপের ফলে এই ইউনিটগুলোর মূল্য অন্যান্য সম্পত্তির তুলনায় দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
কনডো বাজারে ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে না দেখা মন্দা দেখা দিচ্ছে; টরন্টো ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হাজার হাজার প্রস্তুত-প্রাণ কনডো বিক্রয়ের জন্য খালি রয়েছে। গত এক বছরে শহরে ১৮টি কনডো প্রকল্প বাতিল হয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন চাহিদা অব্যাহতভাবে কমে যাওয়ায় এই সংখ্যা বাড়তে পারে।
বাজারের এই পতন নিয়ে আলোচনা চলেছে যে, ডেভেলপাররা অতিরিক্তভাবে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের জন্য ছোট, সাশ্রয়ী ইউনিট তৈরি করে কি না, যাতে উচ্চ জমি মূল্যের এলাকায় মূল্যের ভার কমানো যায়। এসব ইউনিট প্রায়শই ভাড়া দেওয়া বা দ্রুত বিক্রয়ের জন্য পরিকল্পিত হয়।
টরন্টোর ৬০০ বর্গফুটের নিচের কনডোর অধিকাংশই বিনিয়োগকারীর মালিকানায় রয়েছে, যা স্ট্যাটিস্টিক্স কানাডার ডেটা অনুসারে নিশ্চিত। ২০১৬ সালে এই ছোট ইউনিটের নির্মাণে তীব্র বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, এবং বর্তমানে শহরে নির্মিত কনডোর ৩৮% এই শর্তে পড়ে, যেখানে পূর্বে এই অনুপাত মাত্র ৭.৭% ছিল।
এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রে ততটা দৃশ্যমান নয়; সেখানে মাইক্রো-কন্ডোর অংশ বাজারে খুবই সীমিত। নাদিয়া এভাঞ্জেলু, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটর্সের সিনিয়র ইকোনোমিস্ট, উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের ইউনিটের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।
কনডো বাজারের মন্দা টরন্টোর গৃহমালিক ও ভাড়াটেদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিক্রয়মূল্য হ্রাসের ফলে সম্পত্তি মালিকদের সম্পদের মূল্য কমে যাচ্ছে, আর ভাড়াটেদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্পের অভাব বাড়ছে। একই সঙ্গে, ডেভেলপারদের জন্য প্রকল্পের আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে, যা নতুন নির্মাণের গতি ধীর করে দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, যদি চাহিদা পুনরুদ্ধার না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি কনডো প্রকল্প বাতিল হতে পারে, এবং বিদ্যমান খালি ইউনিটের সংখ্যা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের রিটার্নকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
অন্যদিকে, মাইক্রো-কন্ডোর জনপ্রিয়তা হ্রাসের ফলে শহরের নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। ছোট ইউনিটের উচ্চ ঘনত্ব ট্র্যাফিক, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও সামাজিক সেবা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাজারের এই পরিবর্তনকে মোকাবিলার জন্য কিছু নগর পরিকল্পনা সংস্থা ও ডেভেলপার এখন বড় আকারের ইউনিটের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।
সারসংক্ষেপে, টরন্টোর মাইক্রো-কন্ডো বাজার বর্তমানে তীব্র মন্দার মুখে, যেখানে বিক্রয় ও নির্মাণ উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রিয়েল এস্টেট খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন অনিবার্য হতে পারে।



