রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম শনিবার (৩ জানুয়ারি) প্রাতঃ ১১টায় তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়েছেন, মনোনয়নে স্বাক্ষর করা দুইজন সমর্থকের নাম ঢাকা‑৯ নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় না থাকায় আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাসনিম জারা, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রাক্তন নেতা, এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইলেকশন কমিশনে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাক্ষরকারীরা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না থাকলেও তারা নিজে জানতেন যে তারা এই আসনের ভোটার, তাই তারা স্বাক্ষর দিয়েছেন। তাছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন যে কমিশনের অনলাইন ডাটাবেসে এমন তথ্য যাচাইয়ের কোনো সুবিধা নেই।
তাসনিম জারা জানান, মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন এবং মোট আটজনের স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। তবে দুইজন স্বাক্ষরকারী ঢাকা‑৯ এর ভোটার না হওয়ায় পুরো আবেদনপত্রের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রেজাউল করিমের সিদ্ধান্তে মনোনয়নের অবৈধতা নিশ্চিত হওয়ায় তাসনিমের প্রার্থীতা এখন ইলেকশন কমিশনের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা‑৯ আসনের মনোনয়নের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর, এবং রেজিস্ট্রেশন ফরমের যাচাই কাজ ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। যদি কোনো আপত্তি থাকে, তবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইলেকশন কমিশনে আপিল করা সম্ভব। তাসনিম জারা ইতিমধ্যে এই সময়সীমার মধ্যে আপিল দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইলেকশন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে অন্তত নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটার স্বাক্ষর প্রয়োজন, এবং স্বাক্ষরকারীদের ভোটার তালিকায় থাকা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। রেজাউল করিমের রায়ে দেখা যায়, দুইজন স্বাক্ষরকারী তালিকায় না থাকায় আবেদনপত্রের মৌলিক শর্তই পূরণ হয়নি। এই বিষয়টি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, তিনি স্বাক্ষর সংগ্রহের সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্বাক্ষর পেয়েছিলেন, যা তিনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। তবে স্বাক্ষরকারীদের ভোটার স্ট্যাটাসের ভুল তথ্যের ফলে পুরো প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকার তথ্য অনলাইনে সহজে পাওয়া না গেলে এমন ভুল এড়ানো কঠিন।
রেজাউল করিমের রায়ে তিনি তাসনিমের আবেদনপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দুইজন স্বাক্ষরকারীর ভোটার রেকর্ড না থাকায় আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, নির্বাচন আইনের বিধান অনুসারে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে অবৈধ স্বাক্ষর থাকলে তা বাতিল করা বাধ্যতামূলক।
তাসনিম জারা ইলেকশন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল প্রক্রিয়ায় তার আবেদনপত্রের বৈধতা পুনরায় যাচাই হবে এবং সম্ভব হলে মনোনয়ন পুনরায় অনুমোদিত হবে। তাছাড়া, তিনি ভোটার তালিকায় তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য ইলেকশন কমিশনকে অনলাইন ডাটাবেসের উন্নতি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তাসনিমের মত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ার কঠোরতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপিল সফল হয়, তবে এটি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল হতে পারে। অন্যদিকে, যদি রায় বজায় থাকে, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ইলেকশন কমিশনের পরবর্তী ধাপ হবে আপিলের শুনানি, যা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। শুনানির ফলাফল অনুযায়ী, তাসনিম জারার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হবে অথবা চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঢাকা‑৯ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তিত হতে পারে।
দ্রষ্টব্য, তাসনিম জারা ইতিমধ্যে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মনোনয়ন বাতিল হলে, তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন বা স্বতন্ত্রভাবে আবার প্রার্থী হিসেবে দায়ের করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারেন।
সর্বশেষে, রেজাউল করিমের রায় এবং তাসনিমের আপিল উভয়ই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ভোটার তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ত্রুটি এড়াতে ভোটার তালিকার ডিজিটাল অ্যাক্সেস সহজ করা প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।



