ঢাকা‑৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা আজমল হোসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানিয়েছেন, নির্বাচনী কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের সংখ্যা পূরণ করা সত্ত্বেও, দুইজন সমর্থকের ভোটার রেকর্ড না থাকায় বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য মোট ভোটারের কমপক্ষে ১ শতাংশ স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। তাসনিম জারা জানান, ঢাকা‑৯ আসনের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন, যা প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছে। তবে, কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত দশজন সমর্থকের মধ্যে দুইজনের ভোটার রেকর্ড না থাকায় পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলের কারণ সম্পর্কে তাসনিম জারা ব্যাখ্যা করেন, সমর্থকদের মধ্যে একজনের বাসা খিলগাঁওতে, যা ঢাকা‑৯ ও ঢাকা‑১১ দুটোই অন্তর্ভুক্ত করে। সমর্থক জানতেন তিনি ঢাকা‑৯ ভোটার এবং সেই অনুযায়ী স্বাক্ষর দিয়েছেন। অন্যজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ঢাকা‑৯ ভোটার হিসেবে উল্লেখ আছে, তবে কয়েক বছর আগে তিনি শরিয়তপুরে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করলেও কোনো আপডেট পাননি, ফলে বর্তমান ইলেকট্রনিক ডাটাবেসে তিনি শরিয়তপুরের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত।
তাসনিম জারা বলেন, এই দুইজন সমর্থকই জানতেন না যে তাদের ভোটার রেকর্ডে পরিবর্তন ঘটেছে, এবং নির্বাচনী কমিশনের তথ্যভান্ডার থেকে এই বিষয়টি যাচাই করার কোনো উপায় তাদের কাছে ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার রেজিস্ট্রির আপডেট না হওয়া পর্যন্ত সমর্থকরা নিজেদের ভোটার সীমানা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করতে পারেন।
প্রতিবাদী পক্ষের মতে, তাসনিম জারার দল স্বাক্ষরের সংখ্যা ও বৈধতা নিশ্চিত করতে যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, জমা দেওয়া পাঁচ হাজার স্বাক্ষরের মধ্যে নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত দশজন সমর্থকের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে আটজনের তথ্য সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তাসনিম জারা ও তার দল দ্রুত আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে, তারা নির্বাচনী কমিশনের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আদালতে আবেদন করবে। তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, আপিলের মাধ্যমে তারা দুইজন সমর্থকের ভোটার রেকর্ডের ত্রুটি ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে চান।
নির্বাচনী কমিশনের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর জমা দেওয়া সত্ত্বেও, সমর্থকদের ভোটার রেজিস্ট্রির সঠিকতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কমিশন উল্লেখ করেছে, ভোটার রেজিস্ট্রিতে ভুল তথ্য থাকলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাসনিম জারা বলেন, তারা ভোটার রেজিস্ট্রির তথ্যের অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং নির্বাচনী কমিশনকে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য স্বাক্ষরের সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও, সমর্থকদের ভোটার রেকর্ডের ত্রুটি বাতিলের কারণ হওয়া উচিত নয়।
এই আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল নির্বাচনী পরিসরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান ও ভোটার স্বাক্ষরের যাচাই পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি আপিল সফল হয়, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য স্বাক্ষর যাচাইয়ের মানদণ্ডে কিছু নমনীয়তা আসতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে বলেছে, তারা সকল প্রার্থীর স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়ায় সমানভাবে কঠোরতা বজায় রাখবে এবং ভোটার রেজিস্ট্রির সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
তাসনিম জারার আপিলের পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালতের রায়, নির্বাচনী কমিশনের পুনর্বিবেচনা এবং সম্ভাব্য পুনরায় মনোনয়ন পত্রের গ্রহণযোগ্যতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, ঢাকা‑৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই বিষয়টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে স্বাক্ষর সংগ্রহ ও ভোটার রেজিস্ট্রির সঠিকতা নিশ্চিত করার পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাসনিম জারার আপিলের ফলাফল দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর নতুন আলো ফেলতে পারে।



