বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের দুটি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করার আদেশ জানিয়েছে। নির্দেশটি নারায়ণগঞ্জের ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসইটি) এবং বরিশালের গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (গ্লোবাল ইউ)কে লক্ষ্য করে। ইউজিসি ৫৮তম সভা এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ইউজিসি কর্তৃক জারি করা দুইটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নতুন ভর্তি কার্যক্রম চালানো যাবে না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে, ফলে এই তারিখের আগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান শিক্ষাকাল স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাবে।
কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ, ওয়েবসাইটের ডোমেইন পরিবর্তন, অবকাঠামো এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে ইউজিসির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার প্রতিবেদন ও ৫৮তম মাসিক সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ইউজিসি এই নির্দেশের বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অভিযোগের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা, ওয়েবসাইটের ডোমেইন পরিবর্তন করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ৫৮তম সভা ২০২৪ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার গুণগত মান এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লিখিত দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ক্ষেত্রে নিয়মাবলী লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
ইউজিসি জানিয়েছে যে, নতুন ভর্তি বন্ধের নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আপাত পরিবর্তন হবে না। তবে ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিযোগের সমাধান না করে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিভাগে কাজ থেমে যাবে এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীরা অস্থায়ীভাবে কাজের পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাসের মুখোমুখি হতে পারেন। একই সঙ্গে, ভর্তি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ খোঁজা জরুরি হয়ে পড়বে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি আপনি এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটিতে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে ভর্তি শেষের তারিখ ও শর্তাবলী পুনরায় যাচাই করুন এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি নীতি সম্পর্কে জানুন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি ও অবকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় সহায়ক, নাকি এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



