বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনি বিকেলে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুইজন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দেন। সাবেক সরকারী সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে তার একান্ত সচিব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)কে প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পদবিন্যাসের তথ্যটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
আবদুস সাত্তার, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন তারেক রহমানের নিকটস্থ কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সালেহ শিবলী, যিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, প্রেস সচিবের দায়িত্বে মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ কৌশল নির্ধারণে যুক্ত হবেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এবারের নিয়োগগুলো দলের সংগঠনকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে দলের অভ্যন্তরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক ও পার্টি সদস্যের মতে, অভিজ্ঞ কর্মীদের পুনরায় দায়িত্বে আনা দলীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং যোগাযোগের গতি বাড়াবে। তবে বিরোধী দল ও কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এই পদবিন্যাসকে দলের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে পার্টির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বিএনপির এই পদক্ষেপটি শনি বিকেলে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরসহ প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্দুস সাত্তারকে একান্ত সচিব এবং সালেহ শিবলীকে প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পার্টির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট তথ্য আপডেট করা হয়েছে এবং মিডিয়াকে তথ্য সরবরাহের জন্য একটি নতুন যোগাযোগ লাইন গঠন করা হয়েছে।
আবদুস সাত্তার ও সালেহ শিবলীর পটভূমি উভয়ই রাজনৈতিক ও সাংবাদিক ক্ষেত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সাত্তার, যিনি সরকারী সেবায় বহু বছর কাজ করেছেন, তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতি-নির্ধারণে অভিজ্ঞতা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সালেহ শিবলী, যিনি সাংবাদিকতা ও মিডিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাখেন, প্রেস সচিবের দায়িত্বে দলের বার্তা ও নীতি জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর কাজকে ত্বরান্বিত করবেন।
এই নিয়োগগুলোকে দলীয় সংগঠনের পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, অভিজ্ঞ কর্মীদের পুনরায় দায়িত্বে আনা দলের কৌশলগত পরিকল্পনা ও যোগাযোগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। বিশেষ করে, প্রেস সচিবের ভূমিকা মিডিয়া পরিচালনা ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, তাই সালেহ শিবলীর এই দায়িত্বে থাকা দলের প্রকাশ্য চিত্রকে প্রভাবিত করবে।
বিএনপির অভ্যন্তরে এই পদবিন্যাসকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, তবে বিরোধী দল ও কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এখনও দলের অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতির ওপর নজর রাখছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, নতুন নিয়োগগুলো দলীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকরীতা বাড়াতে পারে, তবে তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, এবারের নিয়োগগুলোকে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও মিডিয়া কৌশলকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। ভবিষ্যতে এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে দলের নীতি ও কার্যক্রমকে গঠন করবেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনমত গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির এই ঘোষণার পর, দলের অফিসিয়াল যোগাযোগ চ্যানেলগুলোতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য আপডেট করা হয়েছে এবং মিডিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি নতুন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে দলের সংগঠনকে আধুনিকায়ন ও কার্যকরীতা বাড়ানোর একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



