প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হাইফো কর্পোরেশন (HieFo Corp.) এর নিউ জার্সি‑ভিত্তিক এয়ারোস্পেস ও ডিফেন্স বিশেষজ্ঞ এমকোর (Emcore) এর সম্পদ অধিগ্রহণে বাধা দেন। হাইফো, যার মালিকানা চীনা নাগরিকের হাতে, $৩ মিলিয়ন মূল্যের এই লেনদেনের মাধ্যমে এমকোরের চিপ ব্যবসা ও ইন্ডিয়াম‑ফসফাইড ওয়েফার ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট অর্জন করতে চেয়েছিল। ট্রাম্পের আদেশে লেনদেনকে “জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে হাইফো “চীনের একজন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে” এবং ২০২৪ সালে এমকোরের সম্পদ অর্জন তার নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই লেনদেনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট হুমকি কী তা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশে লেনদেনটি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং হাইফোকে ১৮০ দিনের মধ্যে এমকোরের সব সম্পদ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। আদেশে হাইফোকে “যে কোনো স্থানে অবস্থিত এমকোর সম্পদের সব অধিকার ও স্বার্থ বিক্রি করতে” বাধ্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ কমিটি (CFIUS) পূর্বে এই লেনদেনে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করেছিল। ট্রাম্পের আদেশের পরে ট্রেজারি বিভাগ এই তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করেছে, তবে ঝুঁকির প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত বিশদ দেয়া হয়নি।
ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে CFIUS-এর তদন্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট হুমকি কী তা প্রকাশ করা হয়নি। এই ধরনের অস্বচ্ছতা সাধারণত সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
হাইফো ও এমকোরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করা গেল না, এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। উভয় সংস্থাই লেনদেনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
লেনদেনের আর্থিক দিক থেকে দেখা যায়, হাইফো এমকোরের চিপ ব্যবসা ও ইন্ডিয়াম‑ফসফাইড ওয়েফার ফ্যাব্রিকেশন ইউনিটের জন্য প্রায় $২.৯২ মিলিয়ন প্রদান করেছিল। এই পরিমাণটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও উচ্চ প্রযুক্তি সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
হাইফো কর্পোরেশন ২০১৯ সালে জেনজাও ঝাং এবং হ্যারি মুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ঝাং এমকোরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারিং ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মুর এমকোরের সিনিয়র সেলস ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন, যা লেনদেনের প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক দিককে সহজতর করেছে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এই রকম নিষেধাজ্ঞা সরাসরি সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। হাইফোর মতো চীনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থার প্রবেশ বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চিপ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে বিদেশি মূলধন ও প্রযুক্তি প্রবাহে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হবে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিবেশে এই সিদ্ধান্তটি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন পর্যায় সূচিত করতে পারে। CFIUS-র কঠোর পর্যালোচনা এবং ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলবে, বিশেষ করে উচ্চ-প্রযুক্তি সেক্টরে।
দীর্ঘমেয়াদে দেখা যাবে এই ধরনের নিরাপত্তা-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে এবং সেমিকন্ডাক্টর বাজারের গতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিয়মাবলী প্রণয়ন করতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের আদেশ হাইফোকে এমকোরের সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিদেশি অংশীদারিত্বের ওপর নতুন সীমা আরোপ করে, এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।



