ঢাকার জিয়া উদ্যানে শনিবার সকালের শোকস্মরণীর পর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পার্টির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পার্টির প্রতিষ্ঠাতা খালেদা জিয়া যে আদর্শ ও দিকনির্দেশনা স্থাপন করেছেন, সেটাই বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো এখন অনুসরণ করবে।
বক্তব্যের সময় রিজভী জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে নারী দলের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর মঞ্চে উঠেন। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার এবং তার দেখানো পথই এখনো পার্টির মূল চালিকাশক্তি। এই আদর্শের ভিত্তিতে পার্টি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
রিজভী আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও তার পিতামাতার আদর্শ ধারণ করে দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবেন। তিনি পার্টির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্যকে জোর দিয়ে তুলে ধরেন, যাতে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকে এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়।
বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রিজভী খালেদা জিয়ার কারাগার অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে কষ্ট ভোগ করার অভিযোগ তুলে বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অশুভ কারসাজি অন্তর্ভুক্ত।” তিনি এই বিষয়টি পার্টির মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের অটল রক্ষক হিসেবে খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে দেশের মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে হয় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। তিনি পার্টির ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করে, বর্তমান সময়ে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই বক্তব্যের পর পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রিজভীর কথাকে সমর্থন জানিয়ে, খালেদা জিয়ার আদর্শকে পুনরায় জীবন্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, পার্টি আগামী নির্বাচনে এই আদর্শের আলোকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাবে এবং দেশের উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে কাজ করবে।
বিএনপির এই ঘোষণার পর, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, বিএনপির এই ধরনের আদর্শভিত্তিক রূপান্তর পার্টির সংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন গতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
রিজভীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পার্টি ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে খালেদা জিয়ার দেখানো পথই পার্টির সব সিদ্ধান্তের পেছনে থাকবে। এই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে, পার্টি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে পুনরায় শক্তি সঞ্চার করতে চায় এবং জনগণের সঙ্গে সংলাপ বাড়িয়ে তুলতে চায়।
সংক্ষেপে, রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পার্টি তার প্রতিষ্ঠাতা নেত্রীর আদর্শকে পুনরায় গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তুলছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পার্টি কীভাবে তার কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করবে এবং দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



