সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে তীব্র বিরোধের ফলে ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বৃহস্পতিবার থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। এডেন থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালী ফ্লাইট থেমে গেছে, ফলে দেশের ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক সংযোগে বড় ধাক্কা লেগেছে।
বন্দের পর থেকে কোন নির্দিষ্ট তারিখে ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সরকারী সূত্রে এখনও কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি, ফলে যাত্রী ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো অনিশ্চয়তার মুখে।
কয়েকটি ইয়েমেনীয় সূত্র দাবি করেছে যে এডেন বিমানবন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গন্তব্যে ফ্লাইট শীঘ্রই পুনরায় শুরু হবে। তবে এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা যায়নি।
ব্রিটিশি সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই সূত্রগুলোকে তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত করতে পারেনি, ফলে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বন্দের মূল কারণ হিসেবে উভয় দেশের মধ্যে আমিরাতগামী ফ্লাইটে কড়া নিয়ম আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে এবং দায়িত্ব কার, তা নিয়ে পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণে কার্যরত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি) এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনই এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এসটিসি গোষ্ঠীকে সমর্থন জানিয়ে আসছে, এবং এই গোষ্ঠী বর্তমানে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত মাসে তারা সরকারী নিয়ন্ত্রণ থেকে এই অঞ্চলগুলো দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের সমর্থন পায় এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এসটিসি’র এই পদক্ষেপকে হুমকি হিসেবে দেখছে। এ কারণে দু’দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট উদ্ভূত হয়েছে।
সৌদি সমর্থিত সরকার এডেন বিমানবন্দর ও ইউএই গন্তব্যে ফ্লাইটের ওপর কড়া নিয়ম আরোপের দায়িত্ব নিজেরাই নিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে এই নিয়মের পরিধি নিয়ে উভয় পক্ষের বিবরণে পার্থক্য দেখা যায়।
সৌদি সূত্রগুলো দাবি করে যে কড়া নিয়ম শুধুমাত্র এডেন ও ইউএই গন্তব্যের ফ্লাইটের জন্য প্রযোজ্য, অন্য কোনো ফ্লাইটে প্রভাব ফেলবে না।
কিছু সৌদি সূত্র এই নিয়মের বাস্তবায়নকে অস্বীকার করে, এবং বলেন যে এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য কোনো সরকারি আদেশ প্রকাশিত হয়নি।
তাদের মতে, এডেন ও ইউএই গন্তব্যে ফ্লাইটের কড়া নিয়ম মূলত ইয়েমেন সরকারই আরোপ করেছে, যাতে বাড়তে থাকা উত্তেজনা কমে।
অন্যদিকে, সৌদি সূত্রগুলো উল্লেখ করে যে এসটিসি নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মন্ত্রণালয় ইউএই গন্তব্যে ফ্লাইটের কড়া নিয়ম না মেনে পুরো বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এই দাবিকে অস্বীকার করে, এবং জানান যে মন্ত্রীর কাছ থেকে বিমানবন্দর বন্ধের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
বন্দের ফলে ইয়েমেনের গৃহস্থালী ও আন্তর্জাতিক সংযোগে বড় ধাক্কা লেগেছে, এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক সমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



