ঢাকা‑২ নির্বাচনী আসনে জামায়াত‑ইসলামি কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র রেজাউল করিম, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্টে ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অনুপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম শনিবারের একটি সভায় জানিয়েছেন, সিআইবি রিপোর্টে দেখা গেছে যে আব্দুল হক ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঋণ খেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় থাকা অবস্থায় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা সম্ভব নয়, তবে আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
সিএইচআইবির তথ্যের পাশাপাশি রেজাউল করিম অতিরিক্ত নথিপত্রের ঘাটতি তুলে ধরেছেন। আব্দুল হক তার আয়কর ট্যাক্স রিটার্ন টেন‑বি ফর্ম জমা দেননি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সরবরাহ করেননি এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের তালিকাও প্রদান করেননি। এইসব অনুপস্থিতি নির্বাচনী নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ঢাকা‑২ আসনে মোট তিনজনের মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। আব্দুল হকের পাশাপাশি বিএনপি থেকে আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জহিরুল ইসলামও প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করিয়েছেন। রেজাউল করিমের সিদ্ধান্তে আমান ও জহিরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে।
বাতিলের ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আব্দুল হক যদি সংশ্লিষ্ট নথি সম্পূর্ণ করে এবং ঋণ খেলাপি তালিকা থেকে মুক্তি পায়, তবে তিনি আপিলের মাধ্যমে পুনরায় মনোনয়নের সুযোগ পেতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে তার নাম নির্বাচন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াত‑ইসলামি দলের ঢাকা‑২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দলের মূল প্রার্থী বাদ পড়ার ফলে নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং বিকল্প প্রার্থীর সন্ধান করতে হবে। অন্যদিকে, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এখন স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের নথিপত্রের ঘাটতি এবং ঋণ খেলাপি তালিকায় থাকা প্রার্থীর মনোনয়নের বাতিল নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গতিপথেও প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে ঢাকা‑২ আসনে ভোটারদের পছন্দের দিক পরিবর্তন হতে পারে।
দলীয় নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াত‑ইসলামি এখন দ্রুত একটি বিকল্প প্রার্থী উপস্থাপন করতে চায়, যাতে নির্বাচনী লড়াইয়ে তার উপস্থিতি বজায় থাকে। অন্যদিকে, বিএনপি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রার্থীর বৈধতা নিশ্চিত করে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিমের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচনী নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম করা হবে না এবং সকল প্রার্থীর নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। তিনি যোগ করেন, আপিলের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চলবে এবং শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে।
বাতিলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে জামায়াত‑ইসলামি দল আপিল দাখিলের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। যদি আপিল গ্রহণযোগ্য হয়, তবে প্রার্থীকে পুনরায় মনোনয়নের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অন্যথায়, দলকে নতুন প্রার্থী নির্বাচন করে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা‑২ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুনর্গঠন হতে পারে। ভোটাররা এখন দুইটি বৈধ প্রার্থীর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, আর জামায়াত‑ইসলামি দলের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, রেজাউল করিমের ঘোষণায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। সকল প্রার্থীর নথিপত্র সম্পূর্ণ ও সঠিক হওয়া নিশ্চিত করা নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গত করে তুলবে এবং ভোটারদের আস্থা জোরদার করবে।



