ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস শনিবার শেষ টেস্টের আগে উল্লেখ করেছেন যে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর অ্যাশেস ট্যুরের পর কোনো স্বস্তি নেওয়া যাবে না।
ইংল্যান্ড দলটি রবিবারের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, যেখানে তারা পূর্বের টেস্টে মেলবোর্নে দুই দিনের মধ্যে চার উইকেটের জয় অর্জন করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এই জয়টি অস্ট্রেলিয়ায় ১৫ বছর পর প্রথম জয় ছিল, তবে সিরিজের ফলাফল বদলাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল, কারণ অস্ট্রেলিয়া পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে জয় পেয়ে ট্রফি রক্ষা করেছে।
স্টোকসের মতে, দলকে এখনো গতি বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন। তিনি বলেছিলেন, “ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে আমরা যখন মাঠে নামি, তখন এই ম্যাচটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড়।” তিনি স্বীকার করেছেন যে অ্যাশেস সিরিজটি প্রত্যাশা অনুযায়ী যায়নি, তবু শেষ টেস্টে জয় অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।
ক্যাপ্টেনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে দলটি আর কোনো আত্মসন্তোষে ভোগবে না। “এই ম্যাচে আমরা আর হালকা ভাবে খেলতে পারি না,” তিনি জোর দিয়ে বললেন। “এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এবং আমাদের একাত্ম হয়ে সঠিক ফলাফল অর্জন করতে হবে, যেমন আমরা গত সপ্তাহে করেছিলাম।”
স্টোকস আরও উল্লেখ করেছেন, “যদিও আমরা আট বা নয় দিন পরে বাড়ি ফিরতে পারি, তবে সেই চিন্তা এখনই নয়। আমাদের পরের পাঁচ দিনই গুরুত্বপূর্ণ, আর সেটাই আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।” তিনি দলের সকল ১১ জন খেলোয়াড়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
ইংল্যান্ডের ১২ জনের স্কোয়াডে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সেমার মেথিউ পটস এবং স্পিনার শোয়াব বশীরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পটস মূল ১৬ জনের স্কোয়াডের অপ্রয়োগিত ফাস্ট বোলার ছিলেন, তবে গাস অ্যাটকিনসনের হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে তাকে খেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শোয়াব বশীর এবং উইল জ্যাক্স শেষ স্থানটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উভয় খেলোয়াড়ই টেস্ট ফরম্যাটে নিজের অবস্থান সুনিশ্চিত করতে চায়, এবং কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। স্কোয়াডের এই সমন্বয় শেষ টেস্টের জন্য দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন স্টিভ স্মিথও শেষ ম্যাচের আগে মাঠের অবস্থা পুনরায় যাচাই করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “শুরু করার আগে পিচের শেষ দৃষ্টিপাত প্রয়োজন,” যা টিমের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দলের মধ্যে মিডিয়া চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, আর বাড়িতে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে। স্টোকসের এই দৃঢ় বক্তব্য মিডিয়ার চাপকে সামলাতে এবং দলকে একত্রিত রাখতে সহায়তা করবে।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই শেষ টেস্ট, যেখানে উভয় দলই শেষ পাঁচ দিনের জন্য প্রস্তুত। ম্যাচের ফলাফল সিরিজের চূড়ান্ত রেকর্ড নির্ধারণ করবে, যদিও অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে ট্রফি রক্ষা করেছে।
ইংল্যান্ডের শেষ সুযোগের জন্য এই ম্যাচটি শুধু একটি গেম নয়, বরং আত্মবিশ্বাস পুনর্নির্মাণের একটি মঞ্চ। স্টোকসের নেতৃত্বে দলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খেলতে চায়, যাতে তারা শেষ পর্যন্ত একটি জয় অর্জন করতে পারে এবং ট্যুরের শেষের দিকে সঠিক ছাপ রেখে যায়।
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ভক্তরা সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সমাবেশের অপেক্ষায়, যেখানে শেষ টেস্টের ফলাফল উভয় দলের জন্যই স্মরণীয় হবে।



